মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনলোজি, ফার্মাসি শিক্ষার্থীদের কোর্স কারিকুলামে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় ব্যবহৃত পিসিআর পদ্ধতির ভাইরাস শনাক্তকরণটি পড়ানোর পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখানো হয়। দেশে কোভিড শনাক্তকরণে শুরু থেকেই এই বিষয়গুলোর শিক্ষার্থী এবং গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ দেওয়া হলে বিপুল পরিমাণ নমুনা এবং কিট নষ্ট হতো না বলে অভিমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র সংগঠন স্বতন্ত্র জোটের। আজ শনিবার (১৩ জুন) সংগঠনটি এক বিবৃতিতে এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক শাহ মোহাম্মদ মিনহাজুল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, করোনা-কালে কিছু জায়গায় মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনলোজি, ফার্মাসি শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন শুধুই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে, তাদেরকে আনা হয়নি কোন প্রকার সম্মানী ও বীমার আওতায়। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলে স্বেচ্ছাসেবী ও তার পরিবারের দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা এটি।
স্বতন্ত্র জোটের মতে, একটা দেশের স্বাস্থ্য খাতে এমবিবিএস ডাক্তার যেমন একটা অপরিহার্য অংশ, তেমনি অপরিহার্য একজন বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, বায়োটেকনোলজি কিংবা ফার্মাসিস্ট। অথচ আমরা বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কেবলমাত্র ডাক্তারদের নিয়োগ দেখতে পাই। এর বাহিরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চলছে বিশেষজ্ঞ লোকদের ছাড়াই, স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেডিকেল খাতের কোন ধরনের বিশেষজ্ঞ নন। স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর অবস্থার জন্য ভূক্তভোগী আমরা সবাই।
তাই অবিলম্বে তিনটি দাবি মেনে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছে এ ছাত্র সংগঠন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—
১) স্বাস্থ্যখাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাইক্রোবায়োলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, বায়োটেকনোলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করা।
২) স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে করোনা ডিটেকশনে যারা কাজ করছে তাদের সম্মানী এবং স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা।
৩) পরবর্তী বিসিএস থেকে স্বাস্থ্য ক্যাডারে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লাইফ সাইন্স গ্রাজুয়েটদের অন্তর্ভুক্ত করা।