© সংগৃহীত
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম খান রিয়াদকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনাকাঙ্খিত এক ঘটনায় জড়িত থাকা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রিয়াদকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিভিন্ন অভিযোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি সংবাদ ও পেশাদার তিন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে গেন্ডারিয়া থানায় একটি জিডি করেন ছাত্রলীগ নেতা। এতে পেশাদার তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রিয়াদ অভিযোগ করেন, তারা কেন্দ্রে ‘বিএনপি জামাতের এজেন্ট হিসেবে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেন’।
এর আগে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনের ভোটগ্রহণকালে গেন্ডারিয়া থানাধীন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের বুথে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট প্রদান শেষে দুই ভোটারকে বের করে দেন কোমরে অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে অবস্থান করা ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ। ওই দু’জন বারবার অনুরোধ করে বলছিলেন, ‘আমরা নৌকার সমর্থক এবং নৌকা মার্কায় ভোট দিতে চাই’। এ সময় রিয়াদ তাদের বলেন, ‘নৌকায় ভোট হয়ে গেছে, চলে যান’।
সাংবাদিক নুরুল আমিন জাহাঙ্গীর বলেন, এ ঘটনা দেখে আমরা ওই দুই ভোটারের ছবি তুলি এবং তাদের মতমত নিই। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ এসে আমাদের জামার গলার ধরে টানাহেঁচড়া এবং ভোট পরিদর্শন কার্ড ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে রিয়াদ তার সহযোগীদের দিয়ে আমাদের জোরপূর্বক আটকে রেখে আমাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন। আমরা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ থাকি।
তিনি বলেন, অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য আমরা কেন্দ্র ইনচার্জ গেন্ডারিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মাহমুদ এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আরিফকে বিষয়টা জানাই। কিন্তু তারা বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকে কিছু বলতে পারব না।
পরে সাংবাদিকরা প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে যান। কিন্তু তিনিও এক্ষেত্রে অপরাগতা প্রকাশ করেন। সবশেষে ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ ও তার সহযোগীরা দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনারের (এসি) উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের মোবাইলের যাবতীয় তথ্য মুছে দেন। এরপর মোবাইল ফোন দিয়ে দেন। এ বিষয়ে পরদিন সব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।