হাসনাত আবদুল্লাহ
হাসনাত আবদুল্লাহ © সংগৃহীত
যে আইজিপি ক্রসফায়ার দেয়ার বাসনা লালন করেন তিনি মূলত একজন হারুন বিপ্লব অথবা বেনজীর বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই ক্রসফায়ার-ফকির পুলিশপ্রধান কোন মোরাল নিয়ে তাঁর বাহিনীর সামনে দাঁড়াবেন, সেটিই এখন আমাদের জানার আগ্রহ। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অন্ধকার অধ্যায়ে ফিরে যেতে চায় না।
ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, সরকার কোনো আইজিপি কিংবা কোনো ক্ষমতাধর কর্মকর্তার ইচ্ছা জনগণের জীবন ও আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। পুলিশকে তাই জনগণের পাশে থাকতে হবে, ক্ষমতার পাশে নয়। জনাব আলী হোসেন ফকির, আপনার অবগতির জন্য বলছি, একজন আইজিপি তার বাহিনীকে সাংবিধানিক সীমার ভিতরে রাখার শপথ নেন, সরকারের ইচ্ছার ভিতরে নয়। যিনি সেই পার্থক্য বোঝেন না, বা বুঝেও প্রকাশ্যে অস্বীকার করেন, তার এই পদে থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি কি থাকে? এই প্রশ্নটা আপনার কাছে রইল।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়ে আপনারা আপনাদের পেশাগত যে শপথ নিয়েছেন, সেই শপথের অবমূল্যায়ন করবেন না। আপনাদের শপথ হচ্ছে রাষ্ট্রের সংবিধান, আইন এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা করা। কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার হাতিয়ার হওয়ার জন্য আপনারা শপথ নেননি। তৃণমূল ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সম্মানিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি আমাদের অপরিসীম শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনারা নিজেদের শ্রম, মেধা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে পুলিশকে বারবার জনগণের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
‘পুলিশ সদস্যদের মনে রাখতে হবে, আপনাদের পেশাগত মর্যাদা কোনো আইজিপি বা রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ওপর নির্ভরশীল নয়। আপনাদের মর্যাদা নির্ভর করে আইনের প্রতি আনুগত্য, ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের প্রতি আপনাদের যে অঙ্গীকার রয়েছে, তার ওপর। জুলাই আমাদের একটি বিষয় স্পষ্টভাবে শিখিয়েছে—পুলিশ কোনো দলীয় বাহিনী নয়। পুলিশ বাহিনী বিএনপির নয়, জামায়াতের নয়, এনসিপির নয়, কোনো রাজনৈতিক দলেরই নয়। পুলিশ জনগণের। জনগণের মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করাই পুলিশের কাজ।’
তিনি আরও বলেন, দেশে আইনের শাসন বিদ্যমান থাকলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার যে ইচ্ছা জনাব ফকির পোষণ করেছেন, সেই ইচ্ছা প্রকাশের পর তিনি আর তার চেয়ারে থাকতে পারতেন না। কিন্তু দেশে আইনের শাসন নেই বলেই তিনি এখনো তার চেয়ারে টিকে আছেন।