আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় রিজভী
আবরার ফাহাদ স্মরণসভায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ © সংগৃহীত
দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত ও আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।
বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহর পাশে বসার স্মৃতিচারণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসেছি। এতে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আবেগাপ্লুত বোধ করেছি। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের রাকসু নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছিলেন বলেই আমি সহসভাপতি (ভিপি) হতে পেরেছিলাম। কিন্তু আজ যখন একজন বীর শহীদের পিতা নিজে এসে আমাকে জানান যে, তিনি ১৯৯০ সালের সেই নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, তখন আমার হৃদয় যে কতটা আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ভারতকে যা দেওয়া হয়েছে, তা তারা মনে রাখবে। কিন্তু এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, সেটিই ছিল তার আসল অপরাধ।’
রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার মাধ্যমে মূলত পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন আরও প্রজ্বলিত করে।
তিনি বলেন, ‘টলস্টয়ের কথা অনুযায়ী, অন্যের বেদনা অনুভব করাই হচ্ছে মানবিক অস্তিত্ব। আবরারের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পলায়ন।’
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ত্যাগ ও আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে তারা কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই ছাত্রদল নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে রিজভী বলেন, বাংলায় একটি প্রবাদ আছে—‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী’। আবরারের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে পুরো জাতি কীভাবে রুখে দাঁড়াতে পারে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ।
আলোচনা সভায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।