সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে চরমোনাই পীরের ১০ অভিযোগ © সংগৃহীত
রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে ১০টি অভিযোগ ও অসন্তোষের কথা তুলে ধরেছেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গঠনের ছয় মাস পরও এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বরং কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, লোডশেডিং, জ্বালানি সংকট ও সংস্কারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, মানুষ হত্যার পরে পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করলেও কোনো বিচার হয় না। নিম্ন আদালতে বিচারের রায় ঘোষণা হলেও সেই রায় আর কার্যকর হয় না, আদালতের অন্দরে বিচার পথ হারায়। অথচ জনগণের প্রত্যাশা ছিলো, অপরাধ সংগঠনের আগেই পুলিশ সক্রিয় হবে, অপরাধ সংগঠনের আগেই অপরাধী নিস্ক্রিয় হবে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন, লোডশেডিং কমান, জ্বালানি সংকট সমাধান করুন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়ে আমরা বারংবার বলে আসছি। কিন্তু এই বিষয়ে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছিলো। সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয়টিও অনুসরণ করা হয়নি। সংস্কারের অন্য বিষয়গুলোতে সরকার রীতিমতো বিরুদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বারংবার বলে আসছি, দেশে সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমাদের দাবি ছিল, জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার সাধন করে দেশ থেকে স্বৈরতেন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই, যদি সরকার সংস্কার না করে তাহলে যে ভয়াবহ পরিনতির আশঙ্কা তৈরি হবে তার দায় এই সরকারকে নিতে হবে।
এ সময় ১০ টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। তার অভিযোগগুলো হলো- প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই: নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতৃত্ব এক কোটি কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন চরমোনাই পীর। তবে ছয় মাসেও এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ন্যূনতম লক্ষণ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কর্মসংস্থানের পরিস্থিতির অবনতি: এক কোটি কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার করা হলেও বাস্তবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। বরং বিভিন্ন খাতে বেকারত্ব বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরএমজি খাতে বেকারত্ব: গত ছয় মাসে শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ বেকার হয়েছেন বলে দাবি করেন চরমোনাই পীর। তার মতে, এটি কর্মসংস্থান পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম উদাহরণ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। অপরাধ সংঘটনের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় করার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন।
প্রতিদিন গড়ে ১০টি হত্যাকাণ্ড: দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন করে মানুষ খুন হচ্ছেন বলে দাবি করেন চরমোনাই পীর। এ পরিস্থিতিকে সরকারের ব্যর্থতার অন্যতম সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যকর না হওয়া: মানুষ হত্যার ঘটনায় পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিম্ন আদালতে রায় হলেও তা কার্যকর না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর করতে ব্যর্থতা: সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চরমোনাই পীর। তার মতে, অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং: দেশে লোডশেডিং মাত্রা ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই অবনতিকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেন ইসলামী আন্দোলনের আমীর।
জ্বালানি সংকট: জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের স্থিতিশীলতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেন চরমোনাই পীর। এ সংকট দ্রুত সমাধানে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কার বাস্তবায়নে হতাশাজনক ভূমিকা: জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা হতাশাজনক বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হলেও সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই সর্বসম্মত বিষয় অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সরকারের প্রতি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, লোডশেডিং কমানো, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান চরমোনাই পীর। অন্যথায় মানুষের ক্ষোভ সীমা স্পর্শ করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
সংস্কার প্রসঙ্গে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, সাংবিধানিক সুযোগ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার করে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে হবে।
সরকার সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে যে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি হবে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।