চরমোনাই পীরের মাহফিলে অংশ নেন আসিফ ও সারজিস © টিডিসি
সম্প্রতি বরিশালে অনুষ্ঠিত চরমোনাই পীরের মাহফিলে অংশ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদল। তিন দিনব্যাপি মাহফিলে অংশ নেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা। ফলে কৌতূহল দেখা দিয়েছে এনসিপির ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরূকরণ হচ্ছে কী না।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) যোহরের নামাজের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনের মাহফিল শুরু হয়। আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিল শেষ হয়।
এবারের মাহফিলে এনসিপির নেতাদের বড় একটি বহর দুই দফায় মাহফিলে অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল মাহফিলে অংশ নিতে চরমোনাই পৌঁছান। ফজর নামাজের পর চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের বয়ানে বসেন এবং বয়ান শেষে সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া মতবিনিময়ে অংশ নেন। বাদ জোহর চরমোনাই মাহফিল স্টেজে বক্তব্য রাখেন আসিফ মাহমুদ।
এসময় আসিফের সঙ্গে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ, ছাত্রনেতা সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জাতীয় ছাত্রশক্তি নেতা যোবায়ের হোসেন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) চরমোনাই পৌঁছান সারজিস আলম। এসময় তিনি ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। মোনাজাতের সময় সারজিসকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের পাশে বসতে দেখা যায়।
রাজনৈতিকভাবে চরমোনাই মাহফিলকে গুরুত্বপূর্ণভাবে দেখা হয়। চরমোনাই পীর দরবারের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হওয়ার কারণে মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষনেতা ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে মাহফিলে অংশ নিতে দেখা যায়। এবছর ইসলামী আন্দোলনের মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া হয়নি বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীকে। দুই দলের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বে ঘুচিয়ে গত বছর জানুয়ারিতে চরমোনাই সফর করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এরপর অনুষ্ঠিত মাহফিলগুলোতে অংশ নিয়েছিলেন জামায়াতের প্রতিনিধিদল। তবে জাতীয় নির্বাচনের পর দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ায় এবার জামায়াত ইসলামকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি বলে মেন করা হচ্ছে।
এনসিপি নেতাদের অংশগ্রহণকে রাজনৈতিকভাব দেখতে নারাজ দুই দলই। তাদের মতে এটি সম্পূর্ণ নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে ও আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় অংশগ্রহণ।
জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, চরমোনাই মাহফিলে অংশ নেওয়া কোনো রাজনৈতিক সফর না। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে এই সফর। এছাড়া যেহেতু আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ এসেছে, সবমিলিয়ে এনসিপির নেতারা সেখানে অংশ নিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তাদের নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সফর নয়। চরমোনাই দরবারের মাহফিলে প্রতিবছরই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আসেন। এবছর এনসিপি নেতারা ছাড়াও বিএনপির প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছেন।
মাহফিলে এনসিপি নেতারা ছাড়াও অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। তিনি পীরের দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপস্থিত আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের কাছে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। জানা যায়, তারেক রহমান মাহফিলে অংশ নিতে আগ্রহী ছিলেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে ও মুসল্লিদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় চরমোনাই দরবার থেকে সাড়া দেওয়া হয়নি। বিএনপি নেতারা মাহফিলে অংশ নিবেন কি এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই শেষ মুহূর্তে মাহফিলে অংশ নেয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি দল। এরআগে ২০২৩ সালে সবশেষ বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল চরমোনাই মাহফিলে নেয়। এরপরের বছরগুলোতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মাহফিলে অংশ নেন।