জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন © প্রতিনিধি
ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি জুলাইয়ের আগে যা ছিল, এখন সেগুলো আরও শক্তিশালী হয়েছে। তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতির সয়লাব। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ১০০ দিনে সরকার ৬০০ জন মানুষ খুন উপহার দিয়েছে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে বিভিন্নভাবে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের মহল হলে 'জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে গৌরবের পথচলা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এসব কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা এ আয়োজন করে।
সেলিম উদ্দিন বলেন, জুলাইকে নিয়ে এখন নানাভাবে কটাক্ষ করা হচ্ছে। একদিকে তারা বলছে জুলাইকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে অন্যদিকে জুলাইয়ের মূল পয়েন্টগুলো, মূল অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে যার যার সুবিধামতো জুলাইয়ের বয়ান হাজির করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ দেওয়া প্রেসিডেন্টকে বদলাতে আমরা শুরুতেই বলেছিলাম, তিনি থাকলে দেশে অঘটন ঘটবে। অনেক দিন পর আপনাদের বোধগম্য হয়েছে, উনি লন্ডন যাওয়ার পরে হাসিনার সাথে কন্টাক্ট করেছেন, এরপরে আপনাদের রক্তে আগুন লেগে গেছে, এখন তাকে বিদায় দিতে হবে। যে সরকার তার শত্রু মিত্র চিনতে এত সময় নেয়, সেই সরকারের হাতে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন হবে না।
তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠন হয়েছে কিন্তু জুলাই এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। জুলাইকে আঁকড়ে ধরে জুলাই চেতনাকে আমরা বাস্তবায়ন করব। জুলাইয়ের চেতনাকে মুলা ঝুলিয়ে আমাদের অন্তর থেকে কেউ মুছে দিতে পারবে না। জুলাইয়ের চেতনার আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। বাংলাদেশে স্বৈরাচার যেন আবার ফিরে না আসে সেজন্য জাতিকে বিভাজন করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বায়ান্নর ইতিহাস কেউ লিখে রাখে নাই, কিন্তু জুলাইকে জামায়াতে ইসলামী লিখে রেখেছে, জান দেবো কিন্তু জুলাই আমরা কখনো দেবো না।
অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, সম্মানিত শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।