গরিবের চাকরি হয় ক্ষমতাবানের সুপারিশে, এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান ‘এমপি’

২২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩০ AM
এনসিপির সাবেক নেত্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা

এনসিপির সাবেক নেত্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা © সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, ‘সিভি অনুযায়ী তার বয়স মাত্র ১৮। এসএসসি শেষ হওয়া মাত্রই যেহেতু চাকরি খুঁজছেন, তাই অনুমান করা যায় বাড়িতে অভাব। এই রকম সংসারে একটা চাকরি মানে শুধু চাকরি না। মানে মায়ের ওষুধ, ছোট ভাইয়ের ফিজিক্স টিচারের বেতন, বৃষ্টি এলে যে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে তা সারানো।’

এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? এমন প্রশ্ন করে তিনি জবাবে বলেছেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনো ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব।’ বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।

ডা. তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘একদিন সিভিটা এমপি সাহেবের কাছে পৌঁছাল। হয়তো মেয়েটি নিজে নিয়ে গিয়েছিল, হয়তো পরিবারের কেউ। ভরসা নিয়ে গিয়েছিল। যেভাবে গরিব মানুষ ক্ষমতাবানদের দ্বারস্থ হয়। সিভিতে সই পড়ল। জোর সুপারিশ করা হলো। কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না।

আর এই ‘জানি না’-টাই আসল কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কারণ যে সম্ভাবনাটা এখন আমাদের সামনে, সেটা কোনো সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তাঁর পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্ভাবনা মানে প্রমাণ না, জানি। কিন্তু এই প্রশ্নটা সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলঙ্কমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে, মহান সংসদ নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: মেস থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আর সংসদ যদি চুপ করে থাকে? তাহলে সেই নীরবতার মানে একটাই। এই সংসদ হয়েছে গরিবকে শোষণ করার জন্য। অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘এখানে আরেকটা কথা না বলে পারছি না। এই যে সুপারিশের ব্যবস্থা, ক্ষমতাবানের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, এটা কি শুধু এই একটা ঘটনার সমস্যা? প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ, জিরো টলারেন্স। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না।’

এই একটা জায়গায় সব দল একমত উল্লেখ করে ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিল, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।’

এইচএসসির রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন দেখুন এখানে
  • ২২ জুলাই ২০২৬
২০২৪ সালের মাস্টার্স প্রোগ্রামের বিষয়ভিত্তিক পেপার কোড এন্ট…
  • ২২ জুলাই ২০২৬
সিজেপির আন্দোলনে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা, দিল্লি মেট্রোর ১৬ …
  • ২২ জুলাই ২০২৬
ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে হাইকোর্টের …
  • ২২ জুলাই ২০২৬
আজ প্রকাশ হচ্ছে অনার্সের প্রথম রিলিজ স্লিপের মেধাতালিকা
  • ২২ জুলাই ২০২৬
জামালপুরে বাসের ধাক্কায় যুবদল নেতা-স্ত্রী আহত, সড়ক অবরোধ
  • ২২ জুলাই ২০২৬