শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা: রাজনীতিতে কতটা বাস্তব?

১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ AM , আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৮ AM
শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা © সংগৃহীত

ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা বেশ আলোড়ন তুলেছে রাজনীতির মাঠে। এনিয়ে ইতোমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

কিন্তু একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খোদ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমও নিষিদ্ধের মতো প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার ফিরতে পারার মতো পরিস্থিতি আদৌ কতটা রয়েছে, তা নিয়েও আছে নানা ধরনের আলোচনা।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতাকে। দুই বছর পর এসে সেই পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবার কোনো নজির নেই।

ফলে শেখ হাসিনা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে কথা বলছেন, তার জোরালো ভিত্তি নেই বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতাই দলটির রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায় বলে মত তাদের।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা

এছাড়া শেখ হাসিনা যে সময়সীমা দিয়েছেন, তা আসতে এখনও আরও পাঁচ মাস বাকি। ফলে তার দেশে ফেরার এই দাবি অনেকের ভাষ্যমতে কেবলই 'রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি', নাকি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার কৌশল – তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

গত বছরের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে আশ্রয় নেয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগে একই বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ এবং সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদেও সেই অধ্যাদেশ অনুমোদন হয়। স্বাভাবিকভাবেই দেশের ভেতরে দলটির কার্যক্রম চালানো আইন অনুযায়ী সম্ভব নয়। ফলে তার বাংলাদেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি কি আদৌ তৈরি হয়েছে কি না- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর মতে, ‘বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানে’ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশের বাইরে। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় যেমন দলটির তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়, একইসাথে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলা মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার দিকটি মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে 'সম্পূর্ণ বৈরী' বলেই মনে করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য এবং শেখ হাসিনার ফেরার জন্য খুবই খুবই প্রতিকূল।

এছাড়া প্রায় দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকেই এর সাথে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে মামলা ও গ্রেফতারের খবর এসেছে গণমাধ্যমে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ভেতরে থাকা অনেক নেতাকর্মীই এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় দলকে সক্রিয় করতে বের করা ঝটিকা মিছিল থেকেও আটক হয়েছেন অনেকে।

এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার দাবি আদৌ কতটা বাস্তব, উঠছে সে প্রশ্নও।

যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বীর আহমেদ বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার ফেরা আর আওয়ামী লীগের ফেরা দুটা আলাদা জিনিস।’ আইন করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় দলটিকে রাজনীতির মাঠে ফিরতে হলে আইনি মোকাবিলার মাধ্যমেই ফিরতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়।

তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবির বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ফলে শেখ হাসিনা আসলে তাকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ।

এছাড়া গণমাধ্যমে সরাসরি নিজেই ফেরার কথা জানানোর 'অন্তর্নিহিত তাৎপর্য' আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে উনি হয়তো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে একটা চাপ হয়ত সরকারের ওপর ক্রিয়েট করতে পারেন।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দলনকারীদের ওপর গুলি বর্ষণসহ নানা কারণে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন শেখ হাসিনা। অনেকের মতে, প্রাণ বাঁচাতে সেসময় দেশ ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে।

দুই বছর পর এসে সেই পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবার কোনো উদাহরণ নেই। ফলে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তার জোরালো ভিত্তি নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।

তারা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমঝোতাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায়। কিন্তু তা করতে হলে যে উপায়ে দলটির নেতাকর্মীদের এগোতে হবে, তার একেবারে ভিন্ন দিকে তারা হাঁটছেন বলেই মত বিশ্লেষকদের।

জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি সরাসরি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ। যার একটি আওয়ামী লীগপন্থি আর অন্যটি আওয়ামী লীগবিরোধী। তিনি বলেন, পুরো এন্টি আওয়ামী লীগ গ্রুপটা আওয়ামী লীগকে ফেরত চায় না। এখন তাদেরকে তো আপনার চাওয়াইতে হবে। আপনি ফিরতে হলেতো এদের সাথে থাকতে হবে। তারা যদি আপনাকে দাঁড়াইতে না দেয়, তাহলে আপনি কীভাবে আসবেন? কীভাবে আপনি রাজনীতি করবেন?

এছাড়া বাংলাদেশে দলটির ৩০ শতাংশ অনুগত সমর্থক আছে বলে ধরে নিলেও বাকি ৭০ শতাংশ তাদের বিরুদ্ধে আছে। ফলে 'অস্তিত্ব সংকটে' থাকায় সেই ৩০ শতাংশ এই মুহূর্তে একত্রিত হয়েও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে পারার বাস্তবতা নেই বলে মনে করেন এই রাজনীতি বিশ্লেষক।

তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে হলে সমঝোতার রাজনীতিতে আসতে হবে। কিন্তু কখন কীভাবে সেই রাজনীতিটা হবে, সেটা সময় বলে দেবে। 

অবশ্য আছে ভিন্নমতও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলছেন, শেখ হাসিনার ফিরতে চাওয়ার পরিকল্পনা তার রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ। সবকিছু অনুকূল হয়ে যাবে, প্রস্তুত হয়ে যাবে, তারপর আন্দোলন হবে- তা নয়। আন্দোলনতো ধারাবাহিক। তিনি যদি এই ডিসেম্বরে না আসতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো এমন হলো যে তিনি আসতে পারলেন না, তিনি আরেকটা তারিখ দিলেন, সেটাও হচ্ছে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা।

এমনকি গত দুই বছরে মুক্তিযুদ্ধের ওপর যেভাবে আঘাত এসেছে, সেখান থেকে জনসাধারণের অনেকের মধ্যেই শেখ হাসিনার যেসব রাজনৈতিক ভুল ছিল, সেগুলোর গুরুত্ব কমে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনার ফেরার পরিকল্পনা গণমাধ্যমে আসার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমি মনে করি না এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। এটা মূলত একটা প্রোপাগান্ডার অংশ। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।

এদিকে শেখ হাসিনা ‘আসছেন না, আসতে পারবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. আসাদুজ্জামান রিপন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাদেশে ৬৬৩টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কেবল হত্যা মামলাই হয়েছে ৪৫৩টি, যার একটিতে তাকে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ। ফলে আইনত আওয়ামী লীগের এই নেতা দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেফতার হবেন। যদিও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলছেন, ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনা দণ্ডপ্রাপ্ত।

তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার তাকে দিতে পারে, নাও দিতে পারে। তাই উনি স্বাধীনভাবে এসে আত্মসমর্পন করবেন, এটা আমার মনে হয় ঠিক না।

যদিও আইনজ্ঞরা বলছেন, রায় হবার পর আপিলের নির্ধারিত সময় পার হলেও শেখ হাসিনা যখনই বাংলাদেশে ফিরে আসেন না কেন আত্মসমর্পণ করে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তার আপিল করার সুযোগ আছে।

সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুর মতে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে অতি দ্রুত বিচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। একইসাথে এই আদালতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শেখ হাসিনা যে চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিকভাবেও আছে।

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ বলছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরার পর প্রথমেই তাকে আইনি লড়াইয়ে যেতে হবে। দলের নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে মামলা করতে হবে। এই মুহূর্তে সরকারতো ওই উদ্যোগে যাবেই না। তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আমার মনে হয় না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর এবার পোকার টেবিলেও হারলেন নেইমার
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
সাতকানিয়ায় বন্যায় ১০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
বৃক্ষরোপণ নিয়ে চিত্রাঙ্কন করে পুরস্কার জেতার ‍সুযোগ
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
পাঁচ বছরে ৪ লাখ শিশু পাবে খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিটের বাজারে আগুন, সর্বোচ্চ দাম পৌনে …
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের
  • ১৪ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence