সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম © সংগৃহীত
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাদুঘর খুলে দেওয়া না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি খুলে নেবে। আজ বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর রায়েরবাজারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ পহেলা জুলাই। দুই বছর আগে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তার শহীদদের স্মরণে আমরা রায়েরবাজারে গণকবরে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। আজ থেকে আমাদের ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ঢাকা ও সারাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান, ফাইয়াজ, রিয়াগোপসহ জুলাইয়ের প্রায় ১৪০০ শহীদকে। আমরা স্মরণ করছি আহত প্রায় ৩০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামা ছাত্রসমাজ পাবলিক, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘শ্রমিক, নিম্নবিত্ত মানুষ, নারী সমাজ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী, আলেম সমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। প্রবাসী ভাই-বোনেরা, বিদেশি বন্ধুরাও আমাদের সহযোগিতা করেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ সেনাবাহিনীর তরুণ সদস্যরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন সবাইকে আমরা স্মরণ করছি।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর হয়ে গেছে। আমরা বলেছিলাম, জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ এখনো পাইনি।’
আরও পড়ুন: জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত হচ্ছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে
ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক রায় নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল ট্রাইব্যুনালের একটি রায় এসেছে, যা জনগণকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারাও ন্যায়বিচার পায়নি। হাসানুল হক ইনুকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে, সেটি যথেষ্ট নয়। আমরা আপিল করে আরও কঠোর বিচার প্রত্যাশা করছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার আসার পর মাত্র দুটি মামলার রায় হয়েছে। তদন্ত ও প্রতিবেদন দাখিলে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক।’
শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনাসহ যারা জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত এবং যারা ভারতে পালিয়ে আছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ পরিবারদের আর্থিক সহায়তা ও জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। কবরস্থান সংরক্ষণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হয়নি এটি দ্রুত করতে হবে।’
জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। এখনো আমরা সেই সংস্কার পাইনি।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। শুধু নামমাত্র পালন করলে হবে না, আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
জুলাই জাদুঘর প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই জাতীয় জাদুঘর খুলে দিতে হবে। না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি খুলে নেবে এবং সেখানে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে।’