বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম © সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের নতুন হাই কমিশনারের উচিত গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগকে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সহায়তার জন্য এদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্যকে ধৃষ্টতাপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ১০ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে। পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশকে নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। ইসরায়েলের মতো শিক্ষা দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। এছাড়া ভারতের নতুন হাই কমিশনারের উচিত গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগকে অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সহায়তার জন্য এদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া। এই বাজেটে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধির চেয়ে ভোগ বিলাস ও আমদানিনির্ভর পরিকল্পনাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
নাহিদ বলেন, ১৯৭১ সালের পর আওয়ামী লীগ সবকিছু দলীয়করণ ও দখল করার ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ এসেছিল। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিলেন। পোশাক শিল্প ছিল তার বড় উদাহরণ। বর্তমান সংকটে আমাদের তরুণদের জন্য জিয়ার সেই জমানার মতো সুপরিকল্পিত কর্মসংস্থান তৈরির নীতি প্রয়োজন ছিল, যা এই বাজেটে অনুপস্থিত।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আপনি সমাজে কনজামশন ডিমান্ড (ভোগের চাহিদা) তৈরি করছেন, কিন্তু প্রোডাকশন বা ইনভেস্টমেন্ট ডিমান্ড তৈরি করছেন না। মানুষ এই টাকা দিয়ে ভারতীয় বা চীনা পণ্য কিনবে। এতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হবে এবং একটি নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী তৈরি হবে। আমাদের দরকার ছিল তরুণদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে প্রোডাকশন সেক্টরে কাজে লাগানো।
তিনি বলেন, দেশের টাকা লুটপাটকারী ও গণহত্যাকারীদের অপরাধ আমি অভিন্ন মনে করি। এস আলম, বেক্সিমকো, ওরিয়ন বা নাসা গ্রুপের মতো যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তাদের সম্পদ জাতীয়করণ করতে হবে এবং নতুন আইন প্রণয়ন করে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে গঠিত জুলাই ফাউন্ডেশন অর্থের অভাবে চলতে পারছে না জানিয়ে নাহিদ বলেন, সরকারের কাছে এই ফাউন্ডেশনে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে ৫ই আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব নয়। দুদক ও বিচার বিভাগ সংস্কার করে দুর্নীতি রোধ করতে হবে। জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। অন্যথায় এই বিশাল বাজেট সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসবে না।