লজ্জিত বলে দুঃখ প্রকাশ
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল © টিডিসি সম্পাদিত
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩০ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজার এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষায়িত বাহিনী এসএসএফের কর্মকর্তা প্রচণ্ড ভিড় সামলাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সালাম দিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের হাজারও নেতাকর্মী প্রচণ্ড ভিড় করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে এই তীব্র ভিড়ের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সামলিয়ে নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছিল। সে সময় এসএসএফের এক কর্মকর্তা ব্যাপক শক্তি দিয়ে নেতাকর্মীদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে এই ধাক্কা গিয়ে লাগে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলের মুখ বা মাথায়। এ সময় জুয়েলকে কিছুটা বিব্রত ও অসহায় মনে হচ্ছিল।
পরে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলে। এ প্রেক্ষিতে আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে জুয়েল নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেখানে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সালাম দেয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময় এভাবে প্রচণ্ড ভিড়ের বিষয়টির প্রতি সচেতন থাকা উচিত ছিল বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি এসএসএফ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিজেদের উপর অর্পিত পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছে বলে স্বীকার করে পরিস্থিতির জন্য লজ্জিত বলে জানান।
ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে জুয়েল লিখেছেন, এই ভিডিওটি অনেকেই দেখেছেন অনেকেই পোস্ট ও শেয়ার করেছে তাই লিখলাম পরিস্থিতি বুঝাতে। এখানে কর্তব্যরত এসএসএফ ক্রাউড হ্যান্ডেল করার জন্য পুশ করে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে। এটা স্বাভাবিক। না হলে সরানো কষ্টকর হতো। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে ছালাম দেওয়ার জন্য উত্থানে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমার মতো আরো অনেকেই দাঁড়িয়ে ছিল। মাননীয় চেয়ারম্যান সাহেবের গাড়ি কাছাকাছি আসলে আমার মতো অনেকেই ছালাম দেওয়ায় চেষ্টা করে এতে ভিড় হয়ে যায়।
‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর পার করতে এসএসএফ সঠিক কাজটিই করেছে। না চেনার কারণে এবং সিকিউরিটি রিজনে ভিড়ের মধ্যে আমার গায়েও ধাক্কা লাগে। ভিড়ের মধ্যে পায়ের চাপে আমার ডান পায়ের আঙুল খানিকটা থেতলেও যায়। পায়ের জুতাও হারিয়ে যায়। যদিও সহযোদ্ধাদের সহযোগিতায় জুতা উদ্ধার করেছি। সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা সবার আগে। এতে এসএসএফ যেভাবে ভালো মনে করে সেভাবেই করবে। এটাই টপ প্রাইওরিটি।’
জুয়েল আরও লিখেন, আমি জীবনে বহুবার সৈনিকের মতো উনাকে অনুসরণ করেছি তাই বলতে পারি দলের কর্মীরা কখনো সিকিউরিটি জন্য থ্রেট না হলেও ভিড়ের মধ্যে আমাদের আরো সতর্কতার সহিত গাড়ির কাছে যাওয়া উচিত ছিল। আমি সত্যিই লজ্জিত। যতদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেচে ছিলেন একইভাবে উনাকেও সালাম দেওয়ায় জন্য অনুসরণ করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি গাড়ির পাশে হেঁটেছি মাইলের পর মাইল।
‘‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে মটরসাইকেল নিয়ে সামনে থেকে ম্যাডামের গাড়ি স্কর্ট করেছি ঢাকা মহানগরের সকল স্থানে। আশেপাশের জেলায়ও যখন উনি যেতেন একই ভাবে অনুসরণ করেছি কর্মীর আবেগ দিয়ে। কর্মী হিসেবে যত কঠিন সময়ই হোক পথ চলা থেমে যায়নি। আরো অনেকেই মাইলের পর মাইল উনাদের অনুসরণ করেছে বুক চিতিয়ে।’’
এদিকে, একই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় তার প্রটোকল টিমের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদলের এক নেতার বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আব্দুর রহিম ভুঁইয়া। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।
এর আগে গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গেলে ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে অভিবাদন জানাতে ভিড় করেন। ভিড় ঠেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান প্রধানমন্ত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসএসএফের (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) এক সদস্য তাকে গলাধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা বিতর্ক।
পরে বিষয়টি নিয়ে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দেন ছাত্রদল নেতা আমানউল্লাহ আমান। তিনি বিষয়টিকে ‘হিট অব দ্য মোমেন্ট’ বা পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আমান লেখেন, আমাদের ভালোবাসার অবিকল্প শব্দ তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসেছেন, এটা আমাদের জন্য পরমানন্দের। তিনি আমাদের আবেগের জায়গা, আবার একই সঙ্গে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী।