রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গণবিপ্লবী উদ্যোগ‘র লোগো © টিডিসি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং চলমান রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকটের সমাধানের দাবিতে ‘জনতার সংসদ’ নামে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গণবিপ্লবী উদ্যোগ। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণে এই বিকল্প সংসদ আয়োজনের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
আয়োজকদের মতে, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আত্মত্যাগের পর সাধারণ মানুষ আশা করেছিল সংসদ হবে গণমানুষের কণ্ঠস্বর। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। টং দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত—সবখানে সংসদের আলাপ নিয়ে আলোচনা থাকলেও জনজীবনের মৌলিক সংকটগুলো সমাধানে সংসদ ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি করছেন তারা।
গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল বলেন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে যে জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনেই প্রত্যাশার সাথে বাস্তবতার ফারাক আমরা জনগণ টের পেয়েছি। জ্বালানী তেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, সংস্কার কার্যক্রম বাতিল করে দিয়ে গুম, হয়রানীর পথ আবারো উন্মুক্ত করাসহ, স্বাস্থ্যখাতের ফেইলিয়র কোথাও এই সংসদ কার্যকর সমাধান দিতে পারে নি। এমনকি যেই জনগণ এই সংসদকে নির্বাচিত করেছে তাদের অবজ্ঞা করে সার্বভৌমত্ব নাকি সংসদের, জনগণের নয় এই হাস্যকর দাবি তোলা হয়েছে। অথচ এই সংসদ চালাতে প্রতি মিনিটে জনগণের পকেট থেকেই খরচ হয় লাখ টাকার উপরে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস হওয়ার কথা না থাকলেও সংসদে 'মিনমিনে বিরোধিতা'র মাধ্যমে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গণবিপ্লবী উদ্যোগের পক্ষ থেকে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, পেশাজীবি সকল বর্গের নাগরিকদের নিয়ে আমরা জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে আলোচনা হওয়া কিংবা না হওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নাগরিক সংলাপের আয়োজন করছি। এই সংলাপ সংসদীয় পদ্ধতিতেই হবে এবং জনগণের জন্যে উন্মুক্ত থাকবে।
আরিফ সোহেল বলেন, এই কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ যে যে জায়গায় জনআকাঙ্ক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তা সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারনাটি আবারো আমরা সামনে নিয়ে আসতে সক্ষম হবো। প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই শেষ কথা। আইনের ধারা, উপধারা, সংসদ, আদালত জনগণের ইচ্ছার অধীন, জনগণের প্রয়োজনে এবং জনগণের ইচ্ছাতেই এগুলো তৈরি তাই জনগণ এদের হাতে জিম্মি থাকতে পারে না। গণতন্ত্রের এই মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করতেই আমাদের এই কর্ম সূচী।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কর্মসূচির সময় ও স্থান এক সপ্তাহের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে। অংশ নিতে আগ্রহীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “People’s Revolutionary Initiative (PRI)” পেজে গিয়ে নিবন্ধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।