সাংবাদিকদের একহাত নিলেন রাকিব
তারেক রহমানের গাড়ির পেছনে দৌড়ে দৌড়ে সালাম ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের © টিডিসি সম্পাদিত
অমর একুশে বইমেলা উদ্বোধন করতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গাড়িবহর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগেই তাকে স্বাগত জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্বাগত জানানোর একপর্যায়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে দৌড়ে দৌড়ে গাড়িতে থাকা তারেক রহমানকে সালাম দিতে দেখা যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দৌড়ে সৌজন্যমূলক সালাম বিনিময় করেছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে। অবশ্য এটা না করলেও পারতাম। বাংলা একাডেমিতে থাকা পুরো ২ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের পরিবর্তে শুধু ১০ সেকেন্ডকে নেগেটিভলি শিরোনাম করে নিউজ করা সাংবাদিকদের একহাত নিলেন ছাত্রদল সভাপতি।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের গাড়ির পেছনে দৌড়ে দৌড়ে সালাম রাকিবের, যা বললেন সারজিস আলম
স্ট্যাটাসে রাকিবুল ইসলাম রাকিব লেখেন, গতকাল দুপুর ১২.৩০টা থেকে ৩.৩০টা, পুরো ৩ ঘণ্টা সময় আমি বাংলা একাডেমি চত্বর এলাকায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত ছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাংলা একাডেমিতে প্রবেশের পূর্বেই সালাম বিনিময় করেছি, হাজার হাজার ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে তার গাড়িকে বাংলা একাডেমিতে প্রবেশের পুরো মুহূর্তটুকু তার গাড়ির সামনে ছিলাম, গাড়ি থেকে সভাপতি হিসেবে আমি নামিয়েছি এবং আমিই প্রথম করমর্দন করে সার্বিক পরিস্থিতিও স্বল্পবাক্যে বর্ণনা করেছি, তাকে স্টেজ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি।
‘‘বইমেলা উদ্বোধনের মুহূর্তে ফিতা কাটার সময়ও তার পাশেই ছিলাম, প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখার সময়ও তারপাশেই ছিলাম, ছাত্রদলের স্টলে আসার পর ছাত্রদলের ম্যাগাজিনটা আমিই তার হাতে দিই, অপরাপর নেতা-কর্মীদের সাথে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরি, সর্বশেষ তাকে সালাম ও করমর্দনের মাধ্যমে বিদায় দেই।’’
তিনি লেখেন, তারপর বাংলা একাডেমি থেকে বের হয়ে মূল গেইটের বাহিরে ছাত্রদলের অপরাপর নেতা-কর্মীদের নিয়ে অবস্থানের মুহূর্তে সিএসএফ এর অনুরোধে আমি তার গাড়ির সামনে গিয়ে বাংলা একাডেমি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সকল ছাত্রদলের সকল ইউনিটকে পরিচয় করিয়ে দেই এবং তারা যেন গাড়ি আটকিয়ে শুভেচ্ছা, সালাম বিনিময় না করে সেজন্য আমিও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হাসিমুখে নির্বৃত্ত করি। দোয়েল চত্বরে গাড়ির গতি অতিদ্রুত হওয়ায় ছাত্রদলের অপরাপর নেতা-কর্মীদের সাথে জাস্ট ৫/৭ সেকেন্ড দৌড়ে সর্বশেষ সৌজন্যমূলক সালাম বিনিময় করেছি। আমি অবশ্য এটা না করলেও পারতাম, কিন্তু কোনো কিছু না ভেবেই সারাক্ষণ তার পাশে থাকার পরও সর্বশেষ সালাম বিনিময় করেছি।
সাংবাদিকদের একহাত নিয়ে তিনি লেখেন, কিন্তু পুরো ২ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৫০ সেকেন্ড এর পরিবর্তে জাস্ট ১০ সেকেন্ডকে নেগেটিভলি শিরোনাম করে নিউজ করে দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন পর এ ধরনের কাজে লিপ্ত অপসাংবাদিকতা সফল।