নির্বাচনে জামানত হারানো ৯ প্রার্থী © সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর দুটি সংসদীয় আসনের মধ্যে রাজবাড়ী-১ আসনে ৪ জন ও রাজবাড়ী-২ আসনের ৯ জনসহ মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু এই দুই আসনের ফলাফল বিবেচনায় ১৩ জনের প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা পরিপত্রে অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। অন্যথায় জামানত বাবদ জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের ৫০ হাজার টাকা জামানত বাবদ জমা দিতে হয়। এ অর্থ নগদ, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ইসির অনুকূলে জমা দেওয়া হয়।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজবাড়ী-১ (সদর ও গোয়ালন্দ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়া ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইস দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া জাকের পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস গোলাপ ফুল প্রতীকে ৮ হাজার ৮৭ ভোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়েছেন।
জানা গেছে, রাজবাড়ী-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৭১ হাজার ৯০২টি। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট হচ্ছে ৩৩ হাজার ৯৮৮টি। রাজবাড়ী-১ আসনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাকের পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছে ৮ হাজার ৮৭ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু পেয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটেরও কম পেয়েছেন তারা। এ জন্য নিয়ম অনুযায়ী তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু টানা তৃতীয় বারের মতন জামানত হারালেন।
অপর দিকে রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ৩৩৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক হাত পাখা প্রতীকে ৮ হাজার ৫০৩ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিউল আজম খান (লাঙ্গল) প্রতীকে ২ হাজার ৫২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা (ফুটবল) প্রতীকে ১ হাজার ২১৯ ভোট, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাহিদ শেখ (ট্রাক) প্রতীকে ৬৩৩ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী কাজী মিনহাজুল আলম (দেয়াল ঘড়ি) প্রতীকে ৩২১ ভোট ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক মন্ডল (ছড়ি) প্রতীকে ২৬৬ ভোট পেয়েছেন।
রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৪টি। এই আসনের মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট হচ্ছে ৪৫ হাজার ৪০০।
রাজবাড়ী-২ আসনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে ৩৬ হাজার ৩৩৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক হাত পাখা প্রতীকে ৮ হাজার ৫০৩ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিউল আজম খান লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ৫২ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা ফুটবল প্রতীকে ১ হাজার ২১৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাহিদ শেখ ট্রাক প্রতীকে ৬৩৩ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী কাজী মিনহাজুল আলম দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ৩২১ ভোট ও সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক মন্ডল ছড়ি প্রতীকে ২৬৬ ভোট পেয়েছেন। তাদের সবাই মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোটের কম পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিউল আজম খান লাঙ্গল প্রতীকে দ্বিতীয় বারের মতন জামানত হারালেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, কোন প্রার্থী যদি মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পান, তাহলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।