শেষ দিনে ঢাকা-৮ আসনসহ একাধিক জায়গায় তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা © সংগৃহীত
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৮ আসনে রাজধানীর পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এই প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান বলেন, এই এলাকায় (ঢাকা-৮ আসন) তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, এই সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এই সমস্যা। এজন্য আপনাদের প্রিয় দল বিএনপি এই ব্যাপারে কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ইনশাল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।
তিনি বলেন, আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করবো, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাবো; তেমনি দেশে মিল কারখানা তৈরির মাধ্যমে আমরা বেকার সমস্যার সমাধান করব।
তারেক রহমান বলেন, একইভাবে আমরা এই ঢাকা-৮ আসনসহ যত জেলা আছে, সর্বত্র ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং আইটি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট আমরা তৈরি করব সেখানে আমাদের তরুণ সমাজের ছেলে হোক মেয়ে হোক তাদেরকে আমরা দক্ষ নাগরিক হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে তুলবো। যার ফলে তারা দেশেই হোক নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করে নিবে পারবে, দেশেই হোক তারা নিজেদের বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে তারা বিদেশেও যেতে পারবে। আমরা দেখেছি আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন। এর মধ্যে অনেক মানুষ বিদেশ যাবার আগে অর্থ সংকটের জন্য তারা নিজেদের বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে হয়। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ আগামীতে যারা এই দক্ষ মানুষ যারা বিদেশে যাবে আমাদের তরুণরা, যুবকরা যারা বিদেশে যাবে, যারা অর্থ সংকটের কারণে যেতে পারছে না তাদেরকে আমরা জমি বিক্রি করতে দেবো না। তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেবো। যেই টাকা সে ধীরে ধীরে ওখানে কর্মসংস্থান করে পরিশোধ করবে। কিন্তু আমরা বাপ দাদার জমি যাতে বিক্রি করতে না আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
একইসঙ্গে বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মোয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মগুরুদের জন্য সন্মানী ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার বক্তব্যে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী আমি জানতে চাই?
বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর তিনি ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনী এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার পর আসেন ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে।