সুলতান মাহমুদ বাবু ও ড. সামিউল হক ফারুকী © সংগৃহীত
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) সংসদীয় আসন। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল আর নদীভাঙনে ক্ষতবিক্ষত এই জনপদে এখন বইছে নির্বাচনের হাওয়া। চর আর বীর এই দুই ভাগে বিভক্ত ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া প্রার্থীরা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে দুই সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। একদিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, অন্যদিকে জেলার মধ্যে জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. সামিউল হক ফারুকী।
নির্বাচনী লড়াইয়ের সমীকরণ ৩৫৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত ইসলামপুর আসনটি একটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮২ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৫৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬২৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।
বিগত ১২টি সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিএনপি এই আসনে দুবার জয়ী হয়েছিল। একবার ১৯৯৬ সালের স্বল্পমেয়াদি নির্বাচনে এবং দ্বিতীয়বার ২০০১ সালে সুলতান মাহমুদ বাবু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। পুরো জেলার মধ্যে এই আসনটিকে নিজেদের তিলক হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠ গুছিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফলে জয়ের ব্যাপারে দুই পক্ষই শতভাগ আশাবাদী।
নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, বিগত সরকার উন্নয়নের নামে কেবল শুধু লুটপাট করেছে। বিএনপি সবসময়ই এই এলাকায় শক্তিশালী ছিল আছে এবং থাকবে। সাধারণ মানুষ উন্নয়ন চায়। আগামী নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের শক্তির প্রমাণ দেবেন।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. সামিউল হক ফারুকী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পুরো ইসলামপুরের জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, বিশেষ করে নারী ও যুবকদের মধ্যে অভূতপূর্ব উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। যুবসমাজ এবার ব্যালটের মাধ্যমে আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে চায়। সব স্তরের মানুষের সমর্থনে আমরা ইনশাআল্লাহ বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
ভোটারদের দাবি উন্নয়ন ও নদী রক্ষা। ইসলামপুরের মূল সংকট বন্যা ও নদীভাঙন। চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবার মুখিয়ে আছেন এমন একজনের জন্য, যিনি তাদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবেন।
সাবধরী চরের ভোটার জিন্নাহ মুন্সি বলেন, ‘আমরা নদীভাঙা মানুষ। তিনবার ঘর ভেঙেছে। যে নদীভাঙন রোধে কাজ করবে এবং ডাকলে পাশে পাবো, তাকেই ভোট দেব। বৌশেরগড় এলাকার আতাউর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, কোনো সরকারের আমলেই আমাদের এলাকায় কোনো কাজ হয়নি। সামান্য বন্যায় বাড়ির ভেতর পানি ওঠে। যারা বাঁধ দেবে এবং রাস্তাঘাট করবে, আমরা তাদের সঙ্গেই আছি।’
নয়াপাড়া ও চিনাডুলী গ্রামের বাসিন্দাদের চোখে এখনো জল। সাঈদ ও নাজমুল হাসান মন্টারা জানান, একসময় তাদের চোখের সামনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী চিনাডুলী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, এস এন উচ্চ বিদ্যালয়, চিনাডুলী হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা। ২০০১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে একের পর এক গ্রাম নদী গিলে খেলেও কার্যকর কোনো নদী শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
ইসলামপুরের নির্বাচনী মাঠে চর ও বীরের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে নদীভাঙা এই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির ওপর।