প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
রাজনীতির মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দলীয় প্রধানদের প্রভাব এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ফেসবুকে কার পোস্টে বেশি লাইক, রিয়্যাকশন ও কমেন্ট পড়ছে—সেটিই হয়ে উঠছে রাজনৈতিক জনসম্পৃক্ততার নতুন সূচক। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ প্রতিযোগিতায় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্য এক প্রার্থীর তুলনায় ফলোয়ার কম থাকলেও এনগেজমেন্ট রেটে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। চলুন দেখে নেওয়া যাক রাজনৈতিক দলের প্রধানদের কার ফেসবুক পেজে লাইক-কমেন্টে এনগেজমেন্ট কেমন।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে গত ৩০ দিনে প্রকাশিত পোস্টগুলোর মোট লাইক ও কমেন্ট বিশ্লেষণ করেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। এতে দেখা যায়, তারেক রহমানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। প্রতিটি পোস্টের গড় রিয়েক্টশন পড়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার। গড়ে কমেন্ট পড়েছে ২৩ হাজার। তারেক রহমানের পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ৫৭ লাখ। ফলোয়ারের দিক থেকেও পেজটি প্রথম অবস্থানের রয়েছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রতি পোস্টে গড় রিয়েক্টশন পড়েছে ৯৫ হাজার। আর গড় কমেন্ট করা হয়েছে ৭ হাজার ৫৬৩ টি। এনগেজমেন্ট রেটে তার পেজটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত আমিরের এ পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ২৪ লাখ। ফলোয়ারের দিক থেকে পেজটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। প্রতিটি পোস্টে গড় রিয়েক্টশন পড়েছে ২১ হাজার। গড় কমেন্ট ৭৬২ টি। নাহিদের পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ৬ লাখ ৬২ হাজার। তার পেজটি ফলোয়ারের দিকে থেকে ৫ম অবস্থানে থাকলেও এনগেজমেন্ট রেটে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। প্রতিটি পোস্টে গড় রিয়েক্টশন ৫৩ হাজার। গড় কমেন্ট ৪ হাজার ১৩৩ টি। পার্থর পেজটিতে ফলোয়ার রয়েছে ৩৩ লাখ। ফলোয়ার সংখ্যায় তিনি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এনগেজমেন্ট রেটে তার অবস্থান চতুর্থ তবে মোট রিয়েক্টশন হিসেবে তৃতীয়তে রয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ০ দশমিক ৮১ শতাংশ। গড় রিয়েক্টশন ২ হাজার ৪৯৬ টি। প্রতি পোস্টে গড়ে কমেন্ট করা হয়েছে ১৭১ টি। তার ফলোয়ার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার যা ফলোয়ারের দিক থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে। তবে এনগেজমেন্ট রেটে অবস্থান পঞ্চম।
আরও পড়ুন: নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর গুগল সার্চে এগিয়ে কোন দল?
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। প্রতি পোস্টে গড়ে রিয়েক্টশন পড়েছে ৮ হাজার ২৮৪ টি। গড় কমেন্ট ১ হাজার ৬৬ টি। নুরের পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা ২১ লাখ হয়ে চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও এনগেজমেন্টে রেটে ষষ্ট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনাইদ আল হাবিবের ফেসবুক পেজটির এনগেজমেন্ট রেট ০ দশমিক ২৩ শতাংশ। গড় রিয়েক্টশন ৫১৯ টি। প্রতি পোস্টে গড় কমেন্ট ৫৩ টি। তার ফলোয়ার সংখ্যা ২ লাখ ৬৯ হাজার। ফলোয়ার সংখ্যা তার পেজটির অবস্থান সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। আর এনগেজমেন্ট রেটেও একই অবস্থানে।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিমের অফিসিয়াল কোনও ফেসবুক পেজ নাই। কোনও তথ্য বা বিজ্ঞপ্তি দলটির অফিসিয়াল পেজে প্রকাশ করা হয়। দলটির একটি সূত্র দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে জানায়, মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে। তার সামাজিক মাধ্যমে কোনও অ্যাকাউন্ট নাই। তবে তার নামে চরমোনাই সমর্থকরা বেশ কিছু ফেসবুক পেজ-গ্রুপ চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নোট: এখানে গত ৩০ দিনে প্রকাশিত পোস্টগুলোর মোট লাইক ও কমেন্ট যোগ করে তা মোট পোস্ট সংখ্যায় ভাগ করা হয়। এরপর প্রাপ্ত ফলাফলকে পেজটির মোট ফলোয়ার সংখ্যায় ভাগ করে শতকরা হার নির্ণয়ের জন্য ১০০ দিয়ে গুণ করা হয়।