মজিবুর রহমান মঞ্জু © টিডিসি ফটো
নির্বাচনে ভোটের প্রতিযোগিতায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের কথা বলে বক্তব্য দেওয়া মানে ধোঁকাবাজি বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান ও ফেনী-২ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ফেনীতে অনেকগুলো মামলা হয়েছে। তার মধ্যে মিথ্যা মামলাগুলো কারা, কোন দলের লোক করেছে আমরা জানি। ভোট শেষ হলে আওয়ামী লীগের লোকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হবেন এই দলের লোক দ্বারাই। তাই বলব, আমরা প্রত্যেক ভোটার একজন স্বাধীন মানুষ, সকলে ন্যায় ও সত্যের পথে ভোট দেবেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের শান্তি রোডে নিজ নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে ভয়ভীতি দেখালে জবাব দেওয়া হবে উল্লেখ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অনেকে নানারকম ভয়ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। গতকাল ছাগলনাইয়ার শুভপুরে জামায়াতের গণসংযোগে হামলা করা হয়েছে। কিন্তু আপসোস লাগে, শেখ হাসিনার চেয়ে বড় ভয়ভীতি দেখানোর সামর্থ্য আর কারো আছে? শেখ হাসিনার ভয়ভীতিও তোয়াক্কা করেনি আমাদের তরুণ সমাজ। এ নির্বাচনে যারা ষড়যন্ত্র ও হুংকার দিচ্ছেন তাদের এই তরুণ প্রজন্ম ভয় পান না। বরং একটা মরলে আরও দশটা দাঁড়িয়ে হুংকারের জবাব দিতে তৈরি হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় এখনো প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেননি, অথচ সেদিন পুলিশ সুপার বলেছেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। ফেনী শহরের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বড় বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেই ব্যাপারেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও নির্বাচন নিরপেক্ষ করার জন্য প্রশাসনের যে বক্তব্য, তা নিয়ে নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে যুক্ত করে মঞ্জু বলেন, আমি প্রয়োজনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ প্রধানের সঙ্গে দেখা করব। ফেনীর নির্বাচনে কোনো ধরনের ভয়ভীতি, সন্ত্রাস আমরা মেনে নেব না। ফেনীর তিনটি আসনে কোনো ধরনের বলপ্রয়োগের চেষ্টা করলে এখান থেকেই আমরা নতুন এক আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করব। নির্বাচনের পাশাপাশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এবি পার্টির এ শীর্ষ নেতা বলেন, যারা কিছুদিন আগে মজলুম ছিলেন, বাড়িতে থাকতে পারতেন না, জেলে ছিলেন, যাদের দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা কষ্টকর ছিল তারাই মাত্র এক-দুই মাসের ব্যবধানে জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় মানুষের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যখন দেশে সংস্কার ও একটি পরিবর্তনের জন্য তরুণরা দাবি তুলেন তখন তারা ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাবনা থাকলেও কমিশনে সরাসরি দ্বিমত না করে নোট অফ ডিসেন্টের নামে প্রতিটি প্রস্তাবে শঙ্কা তৈরি করেছেন। এভাবে ঐক্যমত্য কমিশনে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে গিয়ে আজকের ১০ দলীয় জোটের এ ঐক্য। এই ঐক্যের মূল ভিত্তি জুলাই সনদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে দাঁড়ানো।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য লিয়াকত আলী ভূঞা, এবি পার্টির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদল, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির একেএম সামছুদ্দিন, বর্তমান আমির মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুজাফফর আহমদ জাফরী, জেলা এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।