গঠনতন্ত্র মোতাবেক

বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তবে তৃণমূলের মতামত নিয়ে দায়িত্ব নিতে চান

০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৪ PM , আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৯ PM
তারেক রহমান

তারেক রহমান © টিডিসি সম্পাদিত

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হয়েছে। দলের গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারা মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে দলটির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। 

জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ এখনই পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পরামর্শ দিলেও তারেক রহমান তাতে রাজি না। তিনি চান দলীয় ফোরামে (জাতীয় নির্বাহী কমিটি) বৈঠক করে সরাসরি তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব। 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই এখন দলের চেয়ারম্যান। তবে কৌশলগত কারণে তা ঘোষণা করা হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পুরো দেশ এখন শোকার্ত। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। দলীয়ভাবেও ৭ দিনের শোক চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার (৫ জানুয়ারি) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, পুরো দেশ অভিভাবকহীনতায় আছে। তার ছেলে তারেক রহমানও শোকে মুহ্যমান। এরকম পরিস্থিতিতে দলের পদ-পদবি নিয়ে কারও কোনো চিন্তা নেই। তবে অবশ্যই তারেক রহমান এখন দলের চেয়ারম্যান।

মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের এ ছবি যেন শুধুই স্মৃতি। ফাইল ফটো

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারার নিয়মে তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। সেই থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ৩ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। 

গঠনতন্ত্রের এ বিধানের কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানের নিযুক্তির জন্য আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার দরকার নেই। যদিও দলের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এখনও তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিএনপির লোগো

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কবে, কোনোদিন চেয়ারম্যান হবেন, তা দলীয় সিদ্ধান্তের পর জানা যাবে। 

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদে এবার পূর্ণাঙ্গরূপে অধিষ্ঠিত হতে তারেক রহমানকে পরামর্শও দিয়েছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণীয় ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

তারেক রহমানের আপাতত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবেই কাজ করতে আগ্রহী। পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব তিনি সরাসরি তৃণমূলের মতামতের পর গ্রহণ করতে চান বলে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে। 

সূত্র জানিয়েছে, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামতের পর তারেক রহমান তা এখনই কার্যকর না করার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও তার পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করার জন্য মত দেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান করে রেজ্যুলেশন করার পক্ষে মতামত দিলেও তারেক রহমান তা গ্রহণ করেননি। তিনি তার মায়ের শোকের বিষয়ে সতর্ক। তারেক রহমানের আগে মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তব্য রাখেন। বিচারপতি আবদুস সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মোট ৪১ বছর ৭ মাস তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

বিএনপি সূত্র জানায়, সামরিক স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন এবং ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন—যেখানে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন।

২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে তারেক রহমানকে। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় তিনি গ্রেফতার হন এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে নির্বাসিত হন। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ১৭ বছর সাড়ে ৩ মাস পর দেশে ফেরেন। এর আগে তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে যখন খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি হন, তখন তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় বিগত (বর্তমানে পতিত) আওয়ামী লীগ সরকারে বিরুদ্ধে যুগপৎ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

ভারমুক্ত হলে তারেক রহমান যেসব দায়িত্ব ও ক্ষমতা পাবেন
দলের গঠনতন্ত্রের ৭ (খ) ধারায় চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। উপধারা-১ এ বলা হয়েছে-দলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চেয়ারম্যান দলের সর্বময় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন এবং তদুদ্দেশ্যে জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, বিষয় কমিটিসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহের ওপর কর্তৃত্ব করবেন এবং তাদের কার্যাবলির নিয়ন্ত্রণ, তদারক ও সমন্বয় সাধন করবেন।

উপধারা-২ এ বলা হয়েছে- উপরোক্ত কমিটিসমূহের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও চেয়ারম্যান প্রয়োজনবোধে নিতে পারবেন। আর উপধারা-৩ এ বলা হয়েছে-জাতীয় নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে উক্ত কমিটির কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য নিরূপণ করবেন।

এই ধারায় মোট ৬টি উপধারা রয়েছে। পরবর্তী উপধারাগুলোতে বলা হয়েছে-চেয়ারম্যান প্রয়োজন মনে করলে জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিরসমূহ এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক মনোনীত অন্যান্য কমিটিসমূহ বাতিল করে দিতে এবং পরবর্তী কাউন্সিলের অনুমোদন সাপেক্ষে পুনর্গঠন করতে পারবেন; চেয়ারম্যান জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাসমূহে সভাপতিত্ব করবেন, তবে এ ক্ষমতা প্রয়োজনবোধে তিনি অন্য সদস্যদের ওপর অর্পণ করতে পারবেন এবং চেয়ারম্যান জাতীয় স্থায়ী কমিটি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং বিষয়ভিত্তিক উপ-কমিটিসমূহের শূন্যপদ পূরণ করতে পারবেন।

পাঠ্যবই থেকে বাদ শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
চূড়ান্ত সমঝোতার আগেই আসন ছেড়ে এবি পার্টির মঞ্জুর ট্রলের শিক…
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
শনিবার ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
‘বিবিধ খরচ’ বলে নতুন বই বিতরণে টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রধান শি…
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
হাদি হত্যার বিচার করতে ‘বিপ্লবী সরকার’ চাইলেন বোন মাসুমা
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
ফেরত নয়, জনগণের দেওয়া ৪৭ লক্ষ টাকা নির্বাচনেই ব্যয় করছেন তা…
  • ০২ জানুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!