আবদুল কাদের © ফাইল ফটো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একে-অপরের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ছাত্রশিবির নেতা সাদিক কায়েমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই ছাত্রশিবির নেতা। এবার তাদের আলোচনায় যোগ দিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবদুল কাদের।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবিরের উপেক্ষিত হওয়া এবং ‘যথাযথ হিস্যা না পাওয়া’ থেকেই সৃষ্ট হয়েছে বর্তমান সংকট—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের আহ্বায়ক আবদুল কাদের। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে আবদুল কাদের দাবি করেন, অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক সাদিক কায়েম কখনো চাঁদাবাজি করেছেন—এমন কিছু তিনি কখনো শোনেননি। বরং সাদিক কায়েম কেবল আন্দোলনে তার অবদান অনুযায়ী ক্ষমতার ‘যথাযথ হিস্যা’ চেয়েছেন।
আবদুল কাদের লিখেছেন, ‘সাদিক কায়েম ভাই কখনো চাঁদাবাজি করছেন বলে আমি শুনি নাই; কিন্তু তিনি শুধু ক্ষমতার হিস্যাটা-ই চেয়েছেন। অভ্যুত্থানে তাদের অবদান, ত্যাগ অনুযায়ী হিস্যা বুঝে পেতে চেয়েছেন। সব সমস্যার মূল হচ্ছে এই ‘যথাযথ হিস্যা না পাওয়া!’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াত-শিবির ঘরানার দুজন ব্যক্তি একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি এবং অন্যজন একজন শিবির নেতার স্ত্রী মূলত এই 'হিস্যার বিষয়'টি দেখভাল করতেন। সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়সহ আমলাতন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে নিজেদের মতাদর্শের মানুষ বসানোর কাজে এ দুইজন ‘লিয়াজো’ করতেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে আবদুল কাদের অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে এই দুই ব্যক্তি আসিফ নাহিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় সুপারিশ করতে থাকেন—তবে সেটি নাকি আসিফ নাহিদের জানার বাইরে। তিনি লিখেছেন, “বিষয়টা সমীচীন মনে করে নাই আসিফ-নাহিদ। কারো কনসার্ন ছাড়া এইভাবে নাম বিক্রি করা সঠিক মনে করেন নাই তারা।”
যার ফলে মন্ত্রণালয়গুলোতে ওই দুইজনের বিরুদ্ধে সরাসরি চিঠি পাঠানো হয়। যাতে বলা হয়—তারা কেউ আসিফ ও নাহিদের নাম ভাঙিয়ে তদবির করতে এলে, যেন গ্রহণ না করা হয়।
এ ঘটনার কিছুদিন পর সাদিক কায়েম তার সঙ্গে রাতভর বৈঠক করেন বলেও জানান আবদুল কাদের। “সেদিন সন্ধ্যা থেকে রাত চারটা পর্যন্ত ভাইয়ের পিড়াপীড়িতে দেখা করতে হলো। ভিসি চত্বরে ফজরের ওয়াক্ত পর্যন্ত আমাদের কথা হয়,”—লিখেছেন তিনি।
আলোচনার সারমর্ম তুলে ধরে কাদের বলেন, “সাদিক ভাইয়ের একটাই অভিযোগ তারা (মাহফুজ, নাহিদ, আসিফ) এখন কথা রাখছেন না। অভ্যুত্থানে এত অবদান, ত্যাগের পরও ইনজাস্টিস করা হচ্ছে। তারা কথা শুনছেন না, বরং তাদের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করছেন।”