ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভরাডুবির নেপথ্যে

১৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:৫৭ AM

© টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা নিয়ে এখন আলোচনা-সমালোচনা সর্বত্র। সংগঠনটির প্যানেল থেকে ভিপি পদের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন মাত্র ২৪৫ ভোট। অথচ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ছাত্রদলের প্রার্থীদের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভোট পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংসদ কিংবা হল সংসদ- কোনো পর্যায়েই জয় পায়নি ছাত্রদল প্যানেলের প্রার্থীরা। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিতি, সহাবস্থান না থাকা, সাংগঠনিক দুর্বলতা, অপেক্ষাকৃত বয়স্ক নেতৃত্ব, পরিচিতির অভাবসহ নানা কারণ এর পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যদিও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এর অধিকাংশই মানতে নারাজ। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপে থাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে তারা ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। ফলে সহাবস্থান ছিলো না। দীর্ঘ বিরতির পর প্রচারণার জন্য যতটুকু সময় দরকার ছিল তাও পাওয়া যায়নি। একারণে নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। 

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ক্ষমতাসীনদের আধিপত্যের কারণে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়েই ছাত্রদলের এখন কোনঠাসা অবস্থা। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে না থাকায় এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। কমিটি নিয়মিত না হওয়াও এর বড় কারণ। তবে সিন্ডিকেট এবং আঞ্চলিকতার প্রভাব বেশি থাকায় ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে সকল কমিটি দ্রুত পুনর্গঠন করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু সে সময় ছাত্রলীগের হামলায় তৎকালীন ঢাবি ছাত্রদলের আহবায়ক আবদুল মতিন, সদস্য সচিব নাসিরউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহিদুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী মাইনুলসহ অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন।

এরপর ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ডাকসু আলোচনায় অংশ নিতে মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে গেলেও ছাত্রলীগের ধাওয়ায় চলে যেতে বাধ্য হন ছাত্রদলের নেতার্মীরা। এছাড়া আরও কয়েকবার ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেও পুলিশ ও ছাত্রলীগের বাঁধার কারণে আর ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। এমনকি ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী আহতও হয়েছেন। 

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচন উপলক্ষে আগের মাসে অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ফের মধুর ক্যান্টিনে আসা শুরু করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সহাবস্থানসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা ক্যাম্পাসে কর্মসূচিও পালন করেছেন। কিন্তু প্রায় একমাস তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করলেও ডাকসু নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বড় অংশই চেনেন না। ডাকসু নির্বাচনের একমাস আগে থেকে প্রচারণা চালালেও সেটি তাই খুব বেশি কাজে আসেনি। এছাড়া এসময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকায় ও তাদের পক্ষে আন্দোলন করায় ডাকসু নির্বাচনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থেকে বেশি ভোট পেয়েছেন বলে তারা মনে করছেন। 

কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক, প্রশ্ন ফাঁস, টিউশন ফি বৃদ্ধি, ছাত্রলীগের ‘নির্যাতন, নিপীড়নের’ বিরুদ্ধে ছাত্রদল কার্যত অংশগ্রহণ করেনি, নেতৃত্ব দেয়নি। এ শূণ্যতা কিছুটা পূরণ করতে শুরু করেছে কোটা সংস্কার চাই আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। ফলে ছাত্রদলের জায়গাটা তারা অনেকাংশে দখল করে নিয়েছেন। এছাড়া ১০ বছর ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের কর্মী বাহিনী ও প্রশাসনের মধ্যকার সখ্যতা এবং ক্ষমতার চর্চার কাছে ছাত্রদল গৌণই রয়ে গেছে বলে অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন। 

তবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র হলে এবং নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ হলের ছাত্রদলের অনেক নেতা ডাকসুতে জিততে পারতেন। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারনায় যে সময় পাওয়া গেছে তাতে এত শিক্ষার্থীর সাথে সংযোগ করা সম্ভব হয়নি। ছাত্রদলের প্রার্থীদের ভোট ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো হয়েছে বলেও তারা মনে করছেন। তবে নতুন শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রদলের পরিচিতি কিছুটা কম বলেও স্বীকার করছেন তারা। ১০ বছরের অধিক সময় ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ তৈরি হয়নি বলে মত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘অনিয়ম, কারচুপিসহ অনেক কারণ রয়েছে ছাত্রদলের পরাজয়ের পেছনে। তবে আমরা এখন ক্যাম্পাসে নিয়মিত আসছি। এবার ক্যাম্পাস সহজে ছাড়ছি না।’

কম সময়ে বেশি প্রার্থীর কাছে পৌঁছানোর জন্য অন্যান্য প্রার্থীরা যেভাবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার ও কনটেন্ট তৈরি করে ছেড়েছে তার বিপরীতে ছাত্রদলের প্রার্থীদেরকে বেশ পিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিশেষত কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অনেক এগিয়ে ছিলেন। অনেককিছুতেই লাইভ করতে দেখা গেছে তাদের। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও এক্ষেত্রে ছিলেন ব্যাপক সক্রিয়। তবে ছাত্রদলের অল্প কয়েকজন প্রার্থী ছাড়া অধিকাংশরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদামাটা উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে ছাত্রদলের ভুল ছিলো এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এ ক্ষেত্রে কোন ঘাটতি ছিলো না বলে দাবি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদারের। তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যাকে যতটি ভোট দিয়েছে সে ততটি পেয়েছে। এটি নিয়ে ছাত্রদলের জনপ্রিয়তার বিচার করলে হবে না। আমরা নির্বাচনের আগে হলের বাইরে ভোটকেন্দ্রসহ যেসব দাবি জানিয়েছিলাম সেগুলো মেনে নিলে ছাত্রদলই বেশি ভোট পেত।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবসময় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকেছি। নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে রক্ষা করেছি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নুরুল হককেও নির্বাচনের দিন এবং পরের দিন ছাত্রলীগের হামলা থেকে রক্ষা করেছি। এখন আমরা ক্যাম্পাসে থেকে স্বাভাবিক পরিবেশে রাজনীতি করতে চাই।’

নেতার ইগো ও ষড়যন্ত্রে চার দশক পর বিএনপি ছাড়লেন মাহাবুব মা…
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে নগদ লিমিটেড, আবেদন শেষ ৫ ফেব্রুয়ারি
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স অপেক্ষমাণ রেখে ফেরি ছেড়ে দেওয়ার …
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে যে ৭ ঘটনা ঘটতে পারে
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
ভোকেশনালের সমাপনী পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ শুরু ১ ফেব্রুয়ার…
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে বিকাশ লিমিটেড, আবেদন শেষ ৩ ফেব্রুয়ারি
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২৬