যেভাবে হাদি হয়ে উঠেছেন রাজনীতিতে এক অনন্য চরিত্র

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫০ PM , আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫২ PM
শরীফ ওসমান বিন হাদি

শরীফ ওসমান বিন হাদি © ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলির ঘটনা এখন দেশের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ওসমান হাদির রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার ব্যতিক্রমী বক্তব্যগুলোর সমন্বয়ে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অনন্য চরিত্র।

শরীফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১০-২০১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তিনি পরিচিতি পান।

হাদির গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটিতে, বাবা ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক। নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় হাদির শিক্ষাজীবনের শুরু, শেষ করেন দাখিল ও আলিম। পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এক সময় ইংরেজি শেখার কোচিং সেন্টার সাইফুরস এ শিক্ষকতা করেছেন হাদি। সর্বশেষ ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করছিলেন বলে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা জানিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ওসমান হাদির হাত ধরে গড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্লাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। ‘সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ’ সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সোচ্চার ওসমান হাদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বলেন, এই রায় পুরো পৃথিবীর জন্য নজির স্থাপন করেছে।

গত জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বলেছিলেন, বিএনপি যদি ‘পুরনো ধারায়’ রাজনীতি করে ক্ষমতায় আসে, তবে তারা দুই বছরও ক্ষমতায় টিকতে পারবে না।

বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীরও সমালোচনা করেছে হাদি। এর বাইরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা এবং দৃশ্যত পরিবর্তনের ঘাটতির সমালোচনা করে একটি জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন।

চলতি বছর এনসিপির ডাকা মার্চ টু গোপালগঞ্জ কর্মসুচিতে সংঘর্ষের পর হাদি গোপালগঞ্জ জেলা ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তীব্র ভাষায় বক্তব্য দেন, যা আলোচনার জন্ম দেয়।

পরে বিতর্কের মুখে তিনি তার গালিকে ‘মুক্তির মহাকাব্য’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং কেউ দুঃখ পেয়ে থাকলে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গত নভেম্বর মাসে হাদি নিজের ফেসবুকের এক পোস্টে দাবি করেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি ফোন নম্বর থেকে তাকে ফোন এবং মেসেজ পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, তার বাড়িতে আগুন দেওয়া ও তার মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকরা তাকে সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখছে। ‘জীবননাশের আশঙ্কা’ সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে পিছিয়ে যাবেন না।

সম্প্রতি মতিঝিল, শাহজাহানপুর, পল্টন, রমনা ও শাহবাগ থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদি। সেজন্য এসব এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তিনি জনসংযোগ করতেন।

আটকের পর যুবকের মরদেহ ফেরত দিল বিএসএফ
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
তিন দফায় পিছিয়ে জকসু নির্বাচন আজ, ভোটগ্রহণ শুরু সকাল সাড়ে …
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজ ছাত্রদল কর্মীসহ আটক ৪
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
সিলেটের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না আজ
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
রুমিন ফারহানার নির্বাচনী মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ, গাড়ির ওপর দ…
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান
  • ০৬ জানুয়ারি ২০২৬