প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহ © সংগৃহীত
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহর ওপর বন্দুক হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তিনি।বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের বাসভবনে ফেরার সময় প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহের গাড়িবহরে বন্দুক হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এটিকে স্পষ্টতই পরিকল্পিত একটি হত্যাচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে সূত্রটি। বন্দুক হামলার পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: আত্মসমর্পণ করবেন হাজী সেলিম
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তারা এই হামলার ঘটনার কোনো ছবি বা ভিডিও ফুটেজ পায়নি এমনকি হামলার পরবর্তী অবস্থারও কোনো ছবি বা ফুটেজ তাদের হাতে আসেনি। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ আল-দিবেইবাহকে হত্যাচেষ্টার প্রত্যক্ষদর্শী কোনো ব্যক্তির সঙ্গেও তারা কথা বলতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্বৃত্তদের হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন লিবিয়ার প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাতি বাশাগা। যদিও সেসময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।
তিউনিশিয়ায় শুরু হওয়া আরব বসন্তের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ লিবিয়ায়। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৪২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা 'স্বৈরশাসক' কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশটির হাজারো মানুষ বিক্ষোভ শুরু করে।
বেনগাজীতে শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভ খুব দ্রুতই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজধানী ত্রিপোলী দখলের মাধ্যমে যা শেষ হয়। ন্যাটো বাহিনীর সহায়তায় কর্নেল গাদ্দাফীকে হত্যা করার পর বিক্ষোভকারীরা ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এনটিসি) ক্ষমতায় বসায়। এরপর দেশটি দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
জাতিসংঘ স্বীকৃত লিবিয়ার সরকার, দেশোটির রাজধানী ত্রিপোলিসহ পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে বেনগাজিকে কেন্দ্র করে মিসর, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতারের বাহিনী দেশটির পূর্বাঞ্চলের দখল নেয়।