হামালাস্থলে নিরাপত্তাকর্মীদের টহল। © সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে এক ইহুদি উপাসনালয়ের বাইরে গাড়ি হামলা ও ছুরিকাঘাতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনার পর পুলিশের গুলিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার কিছু পর হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রিগেশন সিনাগগের (ইহুদি উপাসনালয়) সামনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী হামলা” হিসেবে দেখছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানায়, প্রথমে একটি গাড়ি দিয়ে কয়েকজনকে চাপা দেওয়া হয় এবং এরপর ছুরিকাঘাত করা হয়। জরুরি কল পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। তখন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরে সন্দেহজনক বস্তু থাকায় নিশ্চিত হওয়া যায়নি তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন কিনা। এ কারণে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ জরুরি কোডওয়ার্ড “প্লেটো” ঘোষণা করেছে, যা যুক্তরাজ্যে ‘মারাউডিং টেরর অ্যাটাক’ বা চলমান সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
এদিকে ঘটনার পরপরই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় রাজনৈতিক কমিউনিটির বৈঠক সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের সব সিনাগগেতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। দেশে ফিরে তিনি জরুরি “কোবরা মিটিং”-এ অংশ নেবেন।
স্টারমার বলেন, “ক্রাম্পসলের সিনাগগেতে হামলার ঘটনায় আমি মর্মাহত। ইহুদিদের পঞ্জিকা অনুযায়ী ইয়ম কিপুর সবচেয়ে পবিত্র দিন, আর এমন দিনে এ হামলা আরও ভয়াবহ।”
আরও পড়ুন : ৫০০ কোটির তহবিল থেকে বিতরণ হয়নি কোনও টাকা
যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি “গভীরভাবে হতবাক” ও “দুঃখিত” এ ঘটনায়। ব্রিটিশ রাব্বিনিক কোর্টের প্রধান রাব্বি জোনাথন রোমেইন বলেন, এই হামলা ইহুদিদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে যে রাজনৈতিক সহিংসতা ধর্মীয় ঘৃণায় রূপ নিতে পারে।
ব্রিটেনের মুসলিম কাউন্সিলও এক বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইয়ম কিপুরের দিনে এ হামলা হওয়া, দিনটিকে আরও বেদনাদায়ক করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ অস্ত্র তাক করে সিনাগগের সামনে মাটিতে পড়ে থাকা একজনকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শোনা যায় এবং ওই ব্যক্তি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একই সঙ্গে আরেকজনকে সিনাগগের গেটে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাস এ হামলাকে “জঘন্য ও বেদনাদায়ক” আখ্যা দিয়েছে।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন সিনাগগে ও ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে। তারা জানিয়েছে, লন্ডনে হামলার কোনো বাড়তি হুমকি নেই, তবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইয়ম কিপুর কী
হিব্রু বর্ষপঞ্জি অনুসারে নতুন বছরের প্রথম দিনটি ‘রোশ হাশানাহ’ নামে পরিচিত। হিব্রু বর্ষের প্রথম মাস ‘তিশরেই’। ইহুদি ধর্মবিশ্বাসমতে, এদিন মহাপ্রভু পরবর্তী এক বছরের ভাগ্যলিখনের খাতা খোলেন।
তাই এদিন থেকে ইহুদিরা বিশেষ প্রার্থনা করে। তিশরেই মাসের দশম দিনের মাথায় পালিত হয় পাপমুক্তির দিন ‘ইয়ম কিপুর’। এই দিন শেষে প্রভু ইহুদিদের ভাগ্যলিখন শেষে খাতা বন্ধ করেন। রোশ হাশানাহ থেকে ইয়ম কিপুরের মধ্যবর্তী দিনগুলোকে বলা হয় ইয়ামিম নোরায়িম বা অনুতাপের দিন।
ইয়ম কিপুরের দিনটি ইহুদিরা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সমষ্টিগতভাবে নিবিড় প্রার্থনা, অনুশোচনা, উপবাস ও সংযমের মাধ্যমে পালন করে থাকেন। ইহুদিধর্মমতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাবান এই দিনটি ইসরায়েলে সরকারিভাবে ছুটি থাকে। অত্যাবশ্যকীয় সীমিত কিছু সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকে। কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্টের ডেভ রিচ বলেন, “ইয়ম কিপুর ইহুদিদের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, খ্রিস্টানদের জন্য ক্রিসমাস তেমন গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি আনন্দের দিন নয়, বরং উপবাস ও আত্মসমালোচনার দিন।”