গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ইতিহেসের সাক্ষী সেই জলপাই গাছ © সংগৃহীত
গাছ পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জীব জগতের পরম বন্ধু। গাছ এমন একটি প্রজাতি যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শুধু মানুষের উপকারই করে যায়, বিনিময়ে চায় শুধু একটু যত্ন। তবে পৃথিবীতে এমন কিছু গাছ রয়েছে তারা হাজার হাজার বছর ধরে বেঁচে রয়েছে। সাক্ষী হয়েছে পৃথিবীর অনেক ইতিহাসের। রোমান সাম্রাজ্যের পতন থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে এথেন্সে অলিম্পিকস আয়োজনের মতো বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি জলপাই গাছ। বিষ্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে ৩ হাজার বছর পার করা এ গাছ এখনো স্বাভাবিকভাবে ফলন দিয়ে যাচ্ছে!
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের আনো ভ্যুভস গ্রামে গেলে দেখা মিলবে এক চমৎকার, প্যাঁচানো আকৃতির জলপাই গাছ। আজ থেকে ৩০০০ বছর আগে ক্রিট দ্বীপে বাণিজ্যিকভাবে জলপাই উৎপাদন শুরু হয়। ভ্যুভস গ্রামের এই জলপাই গাছের ক্ষেত্রে আইসোটোপ ডেটিং সম্ভব নয়, কারণ গাছের কাণ্ডের সবচেয়ে ঘন-শক্ত অংশ এর ১৫ ফুট প্যাঁচানো ব্যাসের মধ্যে পড়ে গেছে। তবে গাছের রিং (ঘের) দেখে বোঝা যায় এটি অন্তত দুই সহস্রাব্দ পুরনো, যদিও অন্যান্য অনুমান বলছে গাছটির বয়স প্রায় ৪০০০ বছর!
আরও পড়ুন: ওপেনএআই থেকে কতটুকু সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার
তিন হাজার বছর বসয়ী গাছের কথা শুনলে এই ধারণা করা খুবই স্বাভাবিক যে গাছটি হয়তো শুকিয়ে খটখটে হয়ে গেছে। কিন্তু তা নয়। কলম করা গাছগুলো এই জলপাই গাছটিতে জলপাই উৎপাদন অব্যহত রাখতে সাহায্য করেছে। ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিক বিজয়ীদের মাথায় একটি মুকুট শোভা পায়, যেখানে এই জলপাই গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়েছিল- সেই পুরনো রাজসিক প্রথা ফিরিয়ে আনতে।
ভ্যুভস গ্রামের জলপাই গাছগুলো এখন বেশ সুরক্ষিত রাখা হলেও, এটিই বিশ্বের একমাত্র প্রাচীন গাছ নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার 'গ্রেট বেসিন ব্রিস্টলকোন পাইন' (পাইনাস লঞ্জেভা) গাছের বয়স ৪৮৫৪ বছর। অর্থাৎ, এটির বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল সেই সময়- যখন প্রথম দিকের মেসোপটেমীয় সভ্যতাগুলো তাদের নগর ও বাণিজ্য তৈরি করছিল এবং মিশর তাদের দ্বিতীয় রাজবংশের সূচনা করছিল।
এছাড়াও, লেবাননে 'দ্য সিস্টারস' অথবা 'সিস্টারস অলিভ ট্রিস অব নোয়াহ' নামের আরেকটি জলপাই গাছের বয়স ৬০০০ বছর! হাজার হাজার বছরে অগণিত যুদ্ধ, মহামারি, খরা, দাবানল মোকাবিলা করে এই গাছগুলো সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।