অনলাইন ক্লাস: সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য সমাধান

০৭ মে ২০২০, ১২:৪৩ PM

© টিডিসি ফটো

কোভিড-১৯ এর ভয়াল থাবায় গোটা পৃথিবী নিস্তব্দ এবং সাড়ে ৭শ কোটি মানুষ হতাশার চাদরে আচ্ছাদিত। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে যা লাফিয়ে লাফিয়ে শহর-উপশহর, গ্রাম-গঞ্জে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। এমতাবস্থায় দেশের ৩ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর সুরক্ষার জন্য গত ১৮ মার্চ দেশের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্তু করোনার আক্রমন থেকে গোটা পৃথিবী কবে মুক্তি পাবে এবং ক্লাশ-পরীক্ষা পুনরায় কবে চালু হবে সে বিষয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। আর তাই শিক্ষক অধ্যাপক থেকে শুরু করে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে লক্ষ করা যায় একরাশ উদ্বেগ। পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে সরকার সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

সত্যি বলতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো হতদরিদ্র কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ওঠে আসে যাদের কাঁধে থাকে পরিবারের হাল ধরার বিশাল দায়িত্ব। তাই একাডেমিক পড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে ঝাপিয়ে পড়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। তাই দীর্ঘদিন ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ থাকার খবর তাদের জীবনাকাশে হতাশার ঘনঘটা কালো মেঘে রূপধারণ করেছে। কেননা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সেমিস্টার পদ্ধতিতে সিলেবাস শেষ করার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকায় সেখানে দীর্ঘদিন ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ থাকলে পরবর্তিতে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েও কোর্স শেষ করা জটিল হয়ে যায়। এমনকি এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে আর সেশনজট বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এক অভিশাপের নাম যার ফলে ক্যারিয়ার গড়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে বেগ পেতে হয় এবং চাকরির বাজারে হিমশিম পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাশ চালিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে এবং গত ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনলাইন বৈঠকে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাশ-পরীক্ষা নেওয়ার জোড়ালো তাগিদ দেওয়া হয় যা একটি শিক্ষার্থী বান্ধব উদ্যোগ। কিন্তু এ উদ্যোগ সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারবে কিনা সে বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট কেননা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থীই গ্রামে অবস্থান করছে আর বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেটের বেহাল দশার কারণে অনলাইনে ক্লাশ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটবে।

এছাড়াও বর্তমানে ইন্টারনেট প্যাকেজ অত্যন্ত ব্যয়বহুল যা অনেক মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীর সামর্থ্যের বাইরে। অন্যদিকে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা বাংলাদেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন হওয়ায় এ পদ্ধতির সাথে তাদের খাপ খাওয়ানো একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। শুধু তাই নয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য প্রযুক্তিতে পিছিয়ে রয়েছে ফলে অনলাইনে ক্লাশ-পরীক্ষা কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারবেনা।

এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে সচল ও স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। যেমনঃ স্টুডেন্ট স্পেশাল ইন্টারনেট প্যাকেজ চালু করা, শিক্ষকদের অনলাইন ক্লাশের ওপর স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং যেসব বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ নয় সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাশ-পরীক্ষা গ্রহণ করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা ইত্যাদি। দেশের ক্রান্তি লগ্নে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

 

শিক্ষার্থীঃ আইন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
  • ২৮ জুন ২০২৬
ইতিহাস গড়ে নকআউটে ডি আর কঙ্গো, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড
  • ২৮ জুন ২০২৬
ঢাবি শিক্ষার্থীর স্ত্রীকে নিয়ে খেলা দেখতে বাধা, প্রতিবাদে ক…
  • ২৮ জুন ২০২৬
কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র, রানার্সআপ হয়েই নকআউটে পর্তুগাল
  • ২৮ জুন ২০২৬
মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ
  • ২৮ জুন ২০২৬
পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৩
  • ২৮ জুন ২০২৬