মাহবুব নাহিদ © টিডিসি সম্পাদিত
একটা দেশকে দাঁড় করাতে হলে একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে হয়। একটি দেশ আসলে দাঁড়ায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী চিন্তা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। একটা দেশের শিক্ষাখাত যতটা সমৃদ্ধ হবে, দেশ ততটা দাঁড়াবে, দেশের তরুণ সমাজ যতটা ক্রিয়াশীল হবে ততটা দেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পথে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। বিএনপি ফ্যাসিস্ট হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য ৩১ দফা রূপরেখা দিয়ে রেখেছে। তখন আলোচনা কম হলেও বর্তমান সময়ে বিএনপির ৩১ দফা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।
৩১ দফার বাহিরেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষা খাত নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা জাতির উদ্দেশ্যে প্রকাশ করছেন। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে রাষ্ট্র কাঠামোর মূল ধারার সাথে তরুণদের যুক্ত করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেহেতু বাংলাদেশ এখন “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” পর্যায়ে আছে, তাই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্থাৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সঠিক ব্যবহার এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব রাখার জন্য কাজ করবে বিএনপি। যুবসমাজের চিন্তা, দর্শন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক যুব উন্নয়ন নীতিমালা করার ইচ্ছা আছে তাঁদের। বিএনপি ইতোমধ্যেই শিক্ষিত বেকারদের এক বছরের জন্য বেকার ভাতা প্রদান করার একটি অসাধারণ চিন্তা প্রকাশ করেছে। বেকারত্ব দূর করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করবে তাঁরা।
যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা আছে বিএনপির। যুব সমাজের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করার পরিকল্পনা আছে তাঁদের। ইদানীং যে বিষয়টি বেশ আলোচিত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা, সেটা বহু আগেই বিএনপি ৩১ দফায় বলে রেখেছে যে বাস্তবসম্মত একটি সীমারেখা প্রণয়ন করা হবে। শুধু চাকরির দিকে মনোযোগ না দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কাজ করার ইচ্ছা আছে বিএনপির। ইতোমধ্যেই বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে পারলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি কর্মসংস্থানের রূপরেখা দিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের দেশের কর্মক্ষম মানুষদের কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায় তা নিয়ে ইতোমধ্যে তাঁরা কাজ শুরু করে দিয়েছে। যায়, আরব দেশগুলোতেই আমাদের দেশের মানুষেরা গিয়ে থাকে, সেই জায়গা থেকে পরিবর্তন করে বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের পথে হাঁটতে চায় বিএনপি।
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একদম ঢেলে সাজাতে হবে। বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তুলনা করলে আমরা শিক্ষার মানের দিক থেকে একদম তলানিতে বিদ্যমান। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের গড় স্কোরের সর্বনিম্ন স্কোর ৩০০ আর সর্বোচ্চ ৬২৫, সেখানে আমাদের স্কোর মাত্র ৩৬৮। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিংয়ের দিকে তাকালে বোঝা যায় আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভয়াবহ অবস্থা, আমাদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও থাকে একদম তলানিতে। শিক্ষাকে গবেষণাভিত্তিক করার জন্য গবেষণা ও উন্নয়ন(R & D) নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার পরিকল্পনা আছে বিএনপির।
শিক্ষা খাতের নৈরাজ্য দূর করার জন্য বিশেষ কাজ করবে বিএনপি। আমরা দেখেছি, শেষ যে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখন নকল দূরীকরণের জন্য অসামান্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সেই উদ্যোগ ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছিল। নারী শিক্ষার জন্য বিএনপি চমৎকার সব উদ্যোগ নিয়েছিল। নারীদের জন্য সর্বপ্রথম অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেন বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শিক্ষা সবার জন্য সমান নয়, কারো জন্য শিক্ষা হয়ে উঠবে চাহিদা, অর্থাৎ যেই শিক্ষা সরাসরি কাজে রুপান্তর করতে পারবে, আবার কারো জন্য তা জ্ঞান। তাই বিএনপি নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা (Need-based education) এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে (Knowledge-based education) ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা করেছে। দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা নিয়ে শিক্ষা খাতে ৫% জিডিপি বরাদ্দ করার ইচ্ছা আছে বিএনপির। শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করারও পরিকল্পনা আছে বিএনপির। শিক্ষা খাতকে এমনভাবে বিএনপি সাজাতে চায় যাতে শিল্প, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন একইসাথে সম্পৃক্ত হয়।
শিল্প বিজ্ঞান পো প্রযুক্তি উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে দেশের আমূল উন্নয়ন আসবে এমন পরিকল্পনা আছে তাঁদের। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক দিকেও কাজ করার পরিকল্পনা আছে তাঁদের। স্কাউট, রোভার, বিএনসিসিসহ যে সমস্ত কর্মকাণ্ড করা সম্ভব, সেগুলোকে আধুনিকায়ন করে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার পদক্ষেপ নেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসলে। দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার, প্রসারে কাজ এবং আকাশ সংস্কৃতির করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তাঁদের ইচ্ছা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বহুবারই একটি কথা বলেছেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সকলের জন্য তৃতীয় একটি ভাষার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করার জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শিক্ষাঙ্গণে সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন যাতে অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে নজর রাখা হবে বলে তাঁদের চিন্তা।
আমাদের যুব সমাজকে শিক্ষিত, জ্ঞানী, দক্ষ ও বাস্তব নির্ভর চিন্তার অধিকারী করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা সবাই চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। তাই তারেক রহমানের কণ্ঠে সুর মিলিয়েই আমরা বলতে চাই “সবার আগে বাংলাদেশ”।
লেখক: ছাত্রনেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক