রাজীব হাসান © টিডিসি সম্পাদিত
ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিএসসি শিক্ষার্থীরা বা বিএসসি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল ডিপ্লোমা এবং বিএসসি দুই শিক্ষার্থীর জোটবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র এবং তার সিস্টেমের মুখোমুখি হওয়ার। রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার, “তুমি যদি প্রতি বছর ৩ হাজার ইঞ্জিনিয়ারকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা না-ই করতে পার, তাহলে এত ইঞ্জিনিয়ার বানাচ্ছ কেন?”
সরকারেরই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের ২৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত। আরেকটি খবরে দেখা গেছে, গত ১৩ বছরে উচ্চশিক্ষিত বেকার বেড়েছে আট গুণ!
বেশ কিছুদিন ধরে এটা নিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছি। ইনফ্যাক্ট, ১৯ আগস্টই এটা নিয়ে একটি লেখা লিখেছি। অবাক বিষয় হলো, দেশে আসলেই বেকারের সংখ্যা কত, তাদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত বেকার কতজন, তার স্পষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। শতাংশের হিসাবে বলা আছে, কিন্তু মোট হিসাব নিয়ে কেবল লুকোচুরি খেলা।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে মজুরি পেলে তাকে বেকার ধরা হয় না। এখন যে ছেলে বা মেয়ে প্রাইভেট পড়ায়, বা ফ্রিল্যান্সিং করে কিছু আয় করে; সংজ্ঞার ফাঁদে সেও বেকার নয়।
যে নবম গ্রেড নিয়ে এত হইচই হচ্ছে, আমার জানতে ইচ্ছা করছে, প্রতি বছর সেখানে কতজন চাকরি পায়? প্রতি বছর যত চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়, এর মাত্র ৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে। বাকি ৯৫ শতাংশ চাকরি পাবে কোথায়?
তাদের কর্মসংস্থান তৈরির দায় তো রাষ্ট্রেরই। এতজনের সরকারি চাকরি হবে না স্বাভাবিক। কিন্তু বেসরকারি খাতে, বিদেশে পাঠানোর মতো দক্ষ জনবল তৈরি করা, দেশে থেকে যারা নিজেরা কিছু করতে চায় তাদের সেলফ-এমপ্লয়মেন্টের পরিবেশ তৈরি করা। রাষ্ট্র করবে না তো কে করবে?
আগের লেখায় লিখেছি, এই রাষ্ট্র শুরু থেকে এমন একটা সিস্টেম বানিয়ে রেখেছে, আপনি আপনার বেকারত্বের জন্য নিজেকে ব্যর্থ বা অযোগ্য মনে করবেন। এর জন্য পরিবার, সমাজের গঞ্জনা শুনবেন। কিন্তু রাষ্ট্রকে কখনো প্রশ্ন করবেন না।
কী করবেন? করবেন পরস্পর মারামারি। কখনো রাজনৈতিক মতাদর্শের গ্যাঞ্জাম নিয়ে। কখনো রোনালদো সেরা নাকি মেসি—এই নিয়ে।
চোখের সামনে সত্যিকারের রক্তারক্তির স্কুইড গেম চলছে। ভিআইপিরা আরাম করে মুরগির রান চিবুতে চিবুতে উপভোগ করছেন। কয়েক টুকরো রুটি ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সেটা নিয়েই কাড়াকাড়ি, কামড়াকামড়ি। অথচ আমাদের সবার প্রশ্ন করা উচিত ছিল, ব্লাডি ফাকিং রাষ্ট্র, সবার মুখে রুটি নেই কেন?
রাজীব হাসান: কথাসাহিত্যিক ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক