এনটিআরসিএ © ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রিভিউ রায়ে থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনের ৬৫ প্রার্থী। এসব প্রার্থীর অভিযোগ, সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) টালবাহানা করছে। এর ফলে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন দীর্ঘ এক দশক ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা। রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইতোমধ্যে এনটিআরসিএর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে।
মামলা সূত্র ও সুপ্রিম কোর্টের রায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ হয়েও সরাসরি নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন পরীক্ষার্থীরা। এরপর প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ রিট আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে এনটিআরসিএ রিভিউ পিটিশন দায়ের করলে আপিল বিভাগ রিভিউ রায়ের চূড়ান্ত আদেশে একটি বিশেষ ব্যতিক্রমি অনুচ্ছেদ যুক্ত করেন।
রায়ের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধনে সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘গণবিজ্ঞপ্তির নিয়ম বহাল করা হলেও, মূল ২২০৭ জন রিট আবেদনকারীর (যার অন্তর্ভুক্ত এই ৬৫ জনের প্যানেল) রিভিউ সিদ্ধান্তটি মূল আবেদনকারীদের অনুকূলে পাওয়া পূর্বের সুবিধা বা রায়কে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করবে না এবং এনটিআরসিএ তাদের আদেশ বাস্তবায়নে আইনিভাবে বাধ্য।
ভুক্তভোগী প্রার্থীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মূল পিটিশনারদের অর্জিত অধিকার বজায় রেখে সরাসরি পদায়নের আদেশ দেওয়া সত্ত্বেও এনটিআরসিএ তা বাস্তবায়নে নানামুখী আমলাতান্ত্রিক জট ও সময়ক্ষেপণ করছে। রিভিউ রায়ের স্পষ্ট আদেশের পরও তাদের শূন্য পদে সুপারিশ না করা আদালতের আদেশের সরাসরি লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি তাদের।
মো. রবিউল ইসলাম নামে ১৩তম নিবন্ধনের এক প্রার্থী বলেন, ‘আপিল বিভাগের রিভিউ রায়ে আমাদের আইনি অবস্থান একশ ভাগ সুরক্ষিত ও স্পষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু এনটিআরসিএ আদালতের রায় অমান্য করে বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। বিচারকের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আদালতের স্পষ্ট আদেশ অমান্য করায় এনটিআরসিএ-এর দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং আমাদের দ্রুত পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।’
মোছা. রুনা খাতুন নামে আরেক প্রার্থী বলেন, ‘৩য় গণবিজ্ঞপ্তিতে এই ৬৫ জনের প্রত্যেকেরই বৈধ আবেদন সম্পন্ন করা ছিল। কিন্তু এনটিআরসিএ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অজুহাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে যে ‘শূন্যপদ পাওয়া যায়নি’! পদ থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের প্যাডে লিখিত ওয়াদা দিয়েছিল। এনটিআরসিএ বলেছিল, ‘পরবর্তীতে শূন্যপদের চাহিদা পাওয়া গেলে সুপারিশ করা হবে’। অথচ ৩য়, ৪থ ও ৫ম গণবিজ্ঞপ্তি শেষ হয়ে লাখো শিক্ষক নিয়োগ হলো, বঞ্চিত হয়েছি শুধু আমরা। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ আর নিজেদের আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার এভাবে ধামাচাপা দেওয়া চরম প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অবমাননার শামিল।’
এ বিষয়ে জানতে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবার ব্যবহৃত নম্বরে কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।