ধার করা সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিলেন শিক্ষিকা

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩২ PM
আলেয়া সালমা

আলেয়া সালমা © সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ধার করা সন্তান দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন ছুটি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিকের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অভিভাবকরা। 

জানা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নের মুনিয়ারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আলেয়া সালমা চলতি বছরের ১৪ মার্চ থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন। গর্ভধারণ না করেও এ ছুটি নিতে তিনি ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। প্রতিবেশীর সন্তানকে নিজের সন্তান দেখিয়ে এ ছুটি আদায় করেন তিনি। কয়েক মাস যেতে না যেতেই তা জনসম্মুখে উঠে আসে।

অভিযোগ রয়েছে প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা, উপজেলা শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক (বড়বাবু) আজিজার রহমান ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আবু নোমান মো. নওশাদ আলীর যোগসাজসে এ ধরনের অনৈতিক ছুটিতে আছেন ওই শিক্ষিকা।

জানা যায়, আলেয়া সালমা বদলি সূত্রে ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মুনিয়ারহাট বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ২০১৯ সালে বিয়ে করেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলা কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শফি আহমেদ স্বপনকে। বিয়ের পর থেকে বগুড়ায় চলে যান আলেয়া সালমা। এরপর করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল স্কুল-কলেজ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও তিনি স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসহ নানা অজুহাতে ছুটি নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বিএনপি-পুলিশ-আ. লীগের ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কিশোরগঞ্জ

এ বিষয়ে ওই শিশুর মা শারমিন জানান, ‘সালমা আমার আত্মীয়ের মতো। আমি সন্তানসহ তার সঙ্গে কুড়িগ্রামে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার বাচ্চা তার হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে সেটা আমি কীভাবে বুঝব। 

তিনি আরও বলেন, তার বড় মেয়ের নাম আফিফা। বয়স পাঁচ বছর। আর ছোট মেয়ের নাম আশফিয়া। মার্চ মাসে আশফিয়ার জন্ম হয়েছে। 

শিক্ষিকা আলেয়া সালমা বলেন, কী হয়েছে না হয়েছে, সবাই জানেন। আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক, এটিও সবাইকে ম্যানেজ করে আমি ছুটিতে আছি। শিক্ষা অফিসের বড়বাবু এসব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, আপনারা নিউজ করে আমার কিছুই করতে পারবেন না। যতদিন আমার  ট্রান্সফার হবে না, ততদিন আমি ছুটি নিয়েই চলব। আমাদের সিস্টেম আছে। চাকুরিচ্যুত করার ক্ষমতা সরকারেরও নেই। 

নাগেশ্বরী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মোবাশ্বের আলী বলেন, আলেয়া সালমার সন্তানের বিষয়টি যদি মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জাহান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখনই খোঁজ-খবর নিচ্ছি। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি কয়েকদিন আগে শুনেছি। শিক্ষকদের প্রতিবেদন দিতে বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বন্ধ ঘোষণা, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে চলছে কমিউনি…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
ফেনী সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা, দুই নারী আটক
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
যেসব খাবারে বাড়াতে পারে ক্যানসারের ঝুঁকি
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
নেত্রকোনায় পানিতে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
চকরিয়ায় সড়কের পাশে বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটেছে শেখ হাসিনার আমলে, অনেকটা ত…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬