সমীক্ষার প্রতিবেদন
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান © ফাইল ছবি
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর এক জরিপ অনুযায়ী দেশের শ্রমবাজারে আসা ৯৬ শতাংশের প্রশিক্ষণ নেই। যে কারণ শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মোপযোগী প্রশিক্ষণের মধ্যে সমন্বয় না থাকা। রোববার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে বিআইডিএস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
সম্প্রতি পাট, ওষুধ, প্লাস্টিকসহ ১৫টি শিল্প খাতের ওপর সমীক্ষা চালায় বিআইডিএস। সেই সমীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী নির্মাণ খাতে সবচেয়ে বেশি অদক্ষ শ্রমিক রয়েছে। এ খাতে অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা ৯৮ শতাংশ। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বা হালকা প্রকৌশল খাতে ৭২ শতাংশ শ্রমিকের কোনো শিক্ষা নেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু শ্রমিক নিয়োগেই নয়, ব্যবস্থাপক এমনকি ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায়ে অনেক বিদেশিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে কারখানায় কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এবং কর্মোপযোগী প্রশিক্ষণের মধ্যে সমন্বয় নেই।
এ ছাড়া, কৃষি প্রক্রিয়া শিল্পে শ্রমিকরা প্রশিক্ষিত না হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা সবচেয়ে কম বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, আগামী ১০ বছরে ওইসব খাতে কী পরিমাণ শ্রমিক দরকার হবে এবং সে অনুযায়ী সরকারকে কী ধরনের নীতি-সহায়তা নিতে হবে, সে উদ্দেশ্যে সমীক্ষা করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সুশাসন দরকার আছে, তবে আগে দরকার হচ্ছে উন্নয়ন। গ্রামের মানুষ ভাত চায়, বিদ্যুৎ চায়। সুশাসন নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই, ধারণাও নেই, তবে তারা নিরাপত্তা চায়। আমাদের দুটোরই প্রয়োজন আছে, তবে সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে উন্নয়ন।
আরও পড়ুন: ৪২তম বিসিএসে টিকেও নিয়োগ পাননি ৩৪ চিকিৎসক।
বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. কাজী ইকবালের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি, বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এসময় একাধিক বিশেষজ্ঞ জানান, প্রশিক্ষণের অবশ্যই দরকার আছে, তবে তার আগে কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে এর সুফল মিলবে না। মানসম্মত শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতি বছর ৬ লাখ ব্যবস্থাপক পদে বিদেশিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ বছরে ১৬ লাখ নতুন মুখ শ্রমবাজারে আসছে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার গুণমানে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজস্ব ভাষার পাশাপাশি অন্য একটি ভাষা শিক্ষার পরামর্শ দেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরিন আফরোজ জানান, শীঘ্রই জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।