‘আইএমএফের ঋণ পেতে’ বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম

০৬ আগস্ট ২০২২, ০৯:০৬ AM
জ্বালানি তেল

জ্বালানি তেল © সংগৃহীত

ইতিহাস সৃষ্টি করে দেশে সর্বোচ্চ বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ববাজারে যেখানে জ্বালানি তেলের দাম যখন কমছে সেখানে উল্টা দাম বাড়ায় হতবাক দেশবাসী। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৪৫০ কোটি (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পেতে তাদের শর্ত পূরণ করতে সারের পর তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

তারা বলছেন, আইএমএফের ঋণের প্রধান শর্তই ছিল সরকারের ভর্তুকি কমাতে হবে। সেই শর্ত মেনেই তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। তবে একসঙ্গে এতোটা বাড়ানো উচিৎ হয়নি।

শুক্রবার রাতে দেশে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ৩৪ থেকে ৪৬ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হুট করে এত বেশি দাম বাড়ানোর চাপ অর্থনীতি নিতে পারবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ‘আইএমএফের ঋণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘোষণা আসতে পারে। ঋণের জন্য আইএমএফের সঙ্গে সরকারের কী চুক্তি হয়েছে, সেটা তো আমরা জানি না। তবে সারের পর তেলের দাম বাড়ানোয় এখন আমাদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে না যে, ঋণ পেতেই আইএমএফের কথা মতো তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন: ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

তিনি বলেন, ‘দাম কিছুটা বাড়ানো হবে, এই আশঙ্কা ছিল। তবে সেটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যেত। যতটা বাড়ানো হয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।’

শুক্রবার (৫ আগস্ট) রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ডিজেল ১১৪ টাকা প্রতি লিটার, কেরোসিন ১১৪ টাকা প্রতি লিটার, অকটেন ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার ও পেট্রোল ১৩০ টাকা প্রতি লিটার হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগে ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য ছিল প্রতি লিটার ডিজেল ৮০ টাকা, কেরোসিন ৮০ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা ও পেট্রল ৮৬ টাকা।

এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। সেসময় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটারে ভোক্তা পর্যায়ে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ কেরোসিন ও ডিজেল ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা করা হয়েছিল। তবে সেসময় অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়নি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দেশে দাম কম থাকায় তেল পাচারের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, কোলকাতায় ডিজেলের দাম লিটার প্রতি বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১৪ টাকা। পেট্রোলের দাম ১৩০ টাকা। দেশে দাম কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সময়ের দাবি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিপিসি গত ছয় মাসে (ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই) জ্বালানি তেল বিক্রি করে ৮ হাজার ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে।

ডিজেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলে ১৭০ ডলার থেকে ১৩০ ডলারে নেমেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে এখন ৯০ ডলারে এসেছে। এই দর এ বছর ৭০ থেকে ৮০ ডলারে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।

চীন-পাকিস্তান আমাদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য দুয়ার খুলে…
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এমপি গাজী নজরুলের জামিনে ‘কোনো আপত্তি নেই’ মরিয়মের বাবার
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার কোনো দায় নিতে চায় না: মীর শাহ…
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন বেতন স্কেলে ৪৭ পদে চাকরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে, আবে…
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেসির ‘১০ নম্বর জার্সি’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ লাখ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবে সরকার: শিক্ষা সচিব
  • ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬