অবসরের ২ বছর পরও ব্যবহার করেন শিক্ষা প্রকৌশলের গাড়ি

১৭ এপ্রিল ২০২২, ১২:৫৬ PM
শিক্ষা ভবন

শিক্ষা ভবন © টিডিসি ফটো

শিক্ষা প্রকৌশলের গাড়ি যেন হরিলুট যাচ্ছে। কেউ চাকরি থেকে অবসর নিয়েও গাড়ি ব্যবহার করছে। আবার কারও গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার নেই তারাও ব্যবহার করছে। কোন কোন কর্মকর্তা একাধিক গাড়িও নিজের অধীনে নিয়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা এসব গাড়ির সব রকম খরচ বহন করছে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ। এতে করে যেমন ব্যাহত হচ্ছে রুটিন কাজ তেমনি অপচয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বাবুল আখতার। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর। কিন্তু এখনও তিনি ব্যবহার করছেন ‘পাজেরো স্পোর্ট’ ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি। অথচ নিয়ম অনুযায়ী শেষ কর্মদিবসে তার গাড়িটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিবহন শাখায় বুঝিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু সে নিয়মকে তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। গাড়িতো ব্যবহার করছেন সেই গাড়ির জ্বালানি ও অন্যান্য খরচও নিয়মিতভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশলের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকেই।

শিক্ষা প্রকৌশলের পরিবহন শাখা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার বুলবুল আখতারকে ফোন ও এসএমএস করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

শুধু সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নন, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্বে) মো. আরিফুর রহমান নিয়মবহির্ভূতভাবে ২টি গাড়ি ব্যবহার করছেন। এর একটি তিনি দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করেন। আরেকটি তার পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) প্রধান কার্যালয়ে চলমান রয়েছে ৩০টি গাড়ি। ইইডির পরিবহন ও অফিস সরঞ্জাম ব্যবহার সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী, প্রধান প্রকৌশলী, তিনজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও ছয়জন নির্বাহী প্রকৌশলী মোট ১০ জন সরকারি গাড়ি ব্যবহারে প্রাধিকারভুক্ত। বাকি ২০টি গাড়ির অধিকাংশই বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যবহার করছেন ইইডির ক্ষমতাধর কয়েকজন কমকর্তা ও শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ একাধিক কর্মকর্তা, যাদের গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার নেই।

আরও পড়ুন: ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে দেড় বছর ধরে ধর্ষণ

এ বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক গাড়িচালক জানান, অফিস সময় ৯টা থেকে ৫টা হলেও কর্মকর্তারা জোর করে এর পরও তাদের ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি চালাতে বাধ্য করেন।

শিক্ষা প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দামি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারে ইইডি ও শিক্ষা প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা কোনো নিয়ম মানছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বলেন, ইইডির গাড়িগুলো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের কবজায় থাকায় জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীরা ‘সাইট ভিজিট’ (প্রকল্প কাজ পরিদর্শন) কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ তাদের কখনও পাবলিক পরিবহনে, কখনও একটি গাড়ি দু-তিনজন কর্মকর্তা সমন্বয় করে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে গাড়ি নিয়ে ‘হরিলুট’ চলছে। যে যেভাবে পারছে, প্রাধিকারভুক্ত না হয়েও গাড়ি ব্যবহার করছে। আবার কিছু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে অন্য দপ্তরের কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও অনৈতিক।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ভবনগুলোর সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কার এবং আসবাবপত্র সরবরাহের কাজ করে থাকে। এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, আইসিটি ল্যাব স্থাপন, ইন্টারনেট সংযোগ, আইসিটি সুবিধা সরবরাহের কাজও তারা করে।

তেল নিয়ে ফেরার পথে সড়ক প্রাণ গেল তরুণের 
  • ০৩ এপ্রিল ২০২৬
তিন মাস পর বিএনপির নীতি নির্ধারকদের বৈঠক কাল
  • ০৩ এপ্রিল ২০২৬
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২০ দিনে মৃত্যু ১০৩ শিশুর
  • ০৩ এপ্রিল ২০২৬
নতুন আরেকটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ
  • ০৩ এপ্রিল ২০২৬
আরাকান আর্মির দৌরাত্ম্যে বেকায়দায় টেকনাফের জেলেরা, ২ বছরে ৫…
  • ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ডায়রিয়া কেড়ে নিল সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল ছাত্রী মাহির জীবন
  • ০৩ এপ্রিল ২০২৬