প্রতীকী
মাগুরা সদর উপজেলায় প্রেমিক সেনা সদস্য ইব্রাহীমের বাড়িতে অনশন করছেন একই গ্রামের এক কলেজছাত্রী। বিয়ের দাবিতে ও স্ত্রীর মর্যদা পেতে উপজেলার জগদল ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে ৪ দিন ধরে অনশন করছেন ওই ছাত্রী।
জানা যায়, লক্ষীপুর গ্রামের ইদ্রিস বিশ্বাসের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ৪ দিন ধরে অনশন করে চলেছে মেয়েটি। ইব্রাহীমের বাড়িতে অনশনরত অবস্থায় ছেলে পক্ষ থেকে মেয়েটিকে নানা রকম অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ কথাবর্তা বললেও মেয়েটি তার দাবিতে অনড় আছেন।
অনশনরত কলেজছাত্রী বলেন, আমাদের গ্রামের ইদ্রিস বিশ্বাসের ছেলে ইব্রাহিমের সাথে আমার ৫ বছরের প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। আমার বাবা বিদেশে থাকার সুবাদে ৫ বছর আগে স্কুলে যাওয়া আসার পথে সে আমার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। সে আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে এত দুর এগিয়েছি।
তিনি জানান, আমার বাবা বিদেশে থাকার কারণে ও কোন অভিভাবক না থাকায় ইব্রাহীমের পরিবার আমাদের দেখাশুনা করে। ইব্রাহীম বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে বীর কোরে সৈনিক পদে কর্মরত রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে ইব্রাহীম আমার মায়ের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ধার হিসাবে নিয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতি থাকায় সে আমাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারিরীক সর্ম্পক গড়ে তোলে।
ছেলের বাবা ইদ্রিস বিশ্বাস বলেন, মেয়েটির সাথে আমার ছেলের সর্ম্পকের কথা আমরা জানি না। আমার ছেলে কোনদিন আমাদের কাছে তাকে বিয়ের কথা বলেনি। আমি মেয়েটিকে চিনি। সে আমাদের গ্রামেরই মেয়ে। আমার ছেলে এ বিয়েতে রাজী নয়।
মেয়ের মা নার্গিস আক্তার বলেন, বিছুদিন আগে আমার মেয়ের একটি বিয়ে ঠিক হয়। বিয়ের সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে শুনে ইব্রাহীম ও তার মা আমাদের বাড়িতে এসে তার সাথে বিয়ের কথা বলে ওই বিয়ে ভেঙ্গে দিতে অনুরোধ করে। তাদের কথা বিশ্বাস করে আমি আমার মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দেই। এখন তারা আমাদের সাথে নানা রকম তালবাহানা করছে।
জগদল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার রবিউল ইসলাম বলেন, আমার চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সে বর্তমানে অসুস্থ। আমি তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। উভয়পক্ষ থেকে এখনো কোন সালিশ হয়নি। এ বিষয়ে গ্রামের কিছু মানুষের সাথে বসে আমি সমাধানের চেষ্টা করছি।