জাতীয় সংসদে রুমিন ফারহানা, নাহিদ ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ঋণখেলাপিদের সংসদ বলে অভিহিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার বক্তব্যের সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। তবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বর্তমান সংসদে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি আছেন, তবে কোনো ঋণখেলাপি নেই।
আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পয়েন্ট অর্ডারে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। পরে তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিন রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে— বাংলাদেশে টোটাল মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লক্ষ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যদি অবলোপন, পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে যে ঋণের টাকাটা আটকে আছে আদালতে অর্থাৎ পেন্ডিং মামলা হিসেবে যেটা এখনো খাতায় তোলা হয় নাই— সেই অ্যামাউন্টটা যদি আমরা যোগ করি, এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লক্ষ কোটি টাকা, যেটা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। সুতরাং ব্যাংকগুলো চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না।
এ সময় তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি উঠলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। এখন যেই দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাদেরকে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তো তাদের দায়িত্ব, তাদের উপরে এই দায় চাপায়। এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে। সরকারদলীয় লোকেরা, যারা মেজরিটি, টু থার্ড মেজরিটি করেছে, তারা ঋণখেলাপিদের সংসদে নিয়ে এসেছে। এটা সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিকভাবেই বলবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলছি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, তাহলে মাননীয় স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব? ফলে যদি এই ধরনের শব্দ বলা হয়ে থাকে, সেটা আসলে এক্সপাঞ্জ হওয়ার মত কোনো বক্তব্য নয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আইন অনুযায়ী, যেমন রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডারসহ অন্যান্য বিধিমালায়, যদি কেউ আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত বা ঘোষিত হন, তবে তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন। এমপি পদে মনোনয়ন দিতে পারেন না। সেটি স্পষ্ট বিধান।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয় ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু ঋণখেলাপি নন। এখন কেউ যদি দাবি করেন যে এই সংসদে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই আইনগত ব্যাখ্যার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও বিরুদ্ধে ব্যাংক বা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মামলা থাকলেও, সেগুলো হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আদালত থেকে নিষ্পত্তির পর এবং বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর তিনি আর ঋণখেলাপি থাকেন না। এবং তারা নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন। সুতরাং এটিকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা সঠিক নয় এবং এটি মানহানিকর বক্তব্য। আমি মনে করি, এটি এক্সপাঞ্জ করা উচিত।