ভাড়া পরিশোধ না করে বাড়ি দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ PM , আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৯ PM
ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামে ভাড়া পরিশোধ না করে বাড়ি দখলের চেষ্টা, বাড়ির মালিক ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, হুমকি ও একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে চট্টগ্রাম একাডেমি হলে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালা এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী এস. এম সহিদ উল্লাহ পাবেল নগরীর হলিশহরের জে-ব্লকের ৮ নম্বর বাড়ি শান্তিলজের মালিক। তিনি জে-ব্লক সমাজকল্যাণ পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, সিনিয়র সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া ও বিএপি নেতা মোহাম্মদ কাউছার সন্দ্বীপ উপজেলার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং সন্দ্বীপ পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাবেল বলেন, অভিযুক্ত কাউছার তার আইনজীবীর মাধ্যমে আমার কাছ থেকে প্রথমে ১ লাখ ৮৩ হাজার এবং পরে আরও ১৮ হাজার টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন। তবে কাউছারের ভাই দিদার তার (কাউছার) পক্ষে গ্রহণ করা আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

পুলিশের টাকা গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, হালিশহর থানায় দুই দফায় মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, ডিবিতে দুই দফায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং সন্ত্রাসীদের ২ লাখ টাকা দেওয়ার ঘটনা একটি সালিস বৈঠকে লিখিতভাবে কাউছার উল্লেখ করেছেন। এসব বিষয়ে আমার কাছে লিখিত নথি সংরক্ষিত রয়েছে। 

ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট কাউছার ও মনা তাদের সহযোগীদের নিয়ে আমার বাসায় হামলা চালিয়ে তিনটি চেক নিয়ে যান। পরে সেই চেক ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আমাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক আখ্যা দিয়ে বাড়িতে হামলা চালানো হয়। একই বছরের ১০ আগস্ট ঘরে ঢুকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে তারা। এ সময় আমার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়।

সবশেষ গত ১০ এপ্রিল বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে পানির সংযোগ নিয়ে বিরোধের জেরে কাউছার, তার স্ত্রী ও শ্যালক আমার স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় আমার দুই শিশুসন্তানও নির্যাতনের শিকার হয়। তারা হাসপাতালেও চিকিৎসা গ্রহণ করে। প্রথমে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে মামলা গ্রহণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে পাবেল আরও বলেন, আমার বয়স ৫৩ বছর। জীবনে কখনো কোনো ফৌজদারি মামলায় জড়ানো, কারাভোগ করা বা আইনগত শাস্তি পাওয়ার ইতিহাস নাই। কিন্তু ২০২৪ সালের পর আমার বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও জড়িত না। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছি।


তবে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মোহাম্মদ কাউছার। তিনি বলেন, আমি নিজেই পাবেলের কাছে টাকা পাব। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। 

অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনজীবীরা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি নিয়েছে। এসব অভিযোগও সত্য নয়।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন বলেন, ‘পুলিশ কোনো ধরনের অর্থ গ্রহণ করে না। কেউ যদি থানায় টাকা দেওয়ার দাবি করে থাকেন, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য থানায় ডাকা হয়েছিল। তবে সহিদ উল্লাহকে একাধিকবার বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি উপস্থিত হননি। উভয় পক্ষ আলোচনায় না এলে সমস্যার সমাধান করা কঠিন।’

সবাই জিপিএ-৫ চান, কেউ সৃজনশীল শিক্ষা চান না: শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৭ জুন ২০২৬
সীমান্তের শূন্যরেখায় ৪ দিন ধরে শিশুসহ ৯ জনের মানবেতর জীবন
  • ১৭ জুন ২০২৬
অস্ট্রিয়ার সঙ্গে বড় ব্যবধানে হারল জর্ডান
  • ১৭ জুন ২০২৬
‘ভিসি-অধ্যাপক হওয়ার পরে কেউ সভাপতি হতে চাইলে আমাদের হতাশ কর…
  • ১৭ জুন ২০২৬
ডাগআউটে কাঁদলেন আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিও, নেপথ্যে কী
  • ১৭ জুন ২০২৬
তর্কের জেরে বন্ধুকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা
  • ১৭ জুন ২০২৬
×