বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণার আহ্বান পরিবেশ উপদেষ্টার

১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:২১ AM
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান © সংগৃহীত

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সহজলভ্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প সরবরাহের মাধ্যমে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। সুবিধানির্ভর সংস্কৃতি ত্যাগ করে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসলে তা শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমাবে না; পাটসহ স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত করবে, জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করবে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘টেকসই প্লাস্টিকমুক্ত সামুদ্রিক পরিবেশ’ শীর্ষক ‘অ্যাওয়ারনেস বিল্ডিং অ্যান্ড ডিসেমিনেশন ক্যাম্পেইন’-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, প্লাস্টিকের ব্যবহার থেকে টেকসই বিকল্পে যেতে সময়, পরিশ্রম এবং ভোক্তাদের আচরণগত পরিবর্তন অপরিহার্য। গত কয়েক দশকে গড়ে ওঠা ভোক্তা-অভ্যাস রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ও অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক সামগ্রী বর্জন করে প্লাস্টিকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বিস্তৃত ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভোক্তাদের প্লাস্টিকনির্ভরতা মূলত সুবিধা এবং ‘ফ্রি’ ধারণা থেকে আসা ভুল বোঝাবুঝির ফল। বাস্তবে একক ব্যবহারের প্লাস্টিক উৎপাদনে শ্রম, বিদ্যুৎ, আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালসহ নানা ব্যয় জড়িত, যার গোপন মূল্য পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকেই দিতে হয়।

রিজওয়ানা হাসান চার বছর মেয়াদি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রশংসা করেন এবং প্রকল্পের সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীদের মাঝে যে পরিবেশ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের পরিবেশগত ফল নির্ধারণ করবে। অতীত প্রজন্মের টেকসই জীবনধারা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জনের আর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো অত্যন্ত জরুরি।

বঙ্গোপসাগর বিশ্বের নবম সর্বাধিক প্লাস্টিকদূষিত সামুদ্রিক অঞ্চল হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে নয়; বরং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উজান থেকে ভেসে আসা প্লাস্টিক বর্জ্যের ফল।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) সমাধান হিসেবে জনপ্রিয় হলেও এটি অত্যন্ত জ্বালানি-নির্ভর ও রাসায়নিকভাবে জটিল প্রক্রিয়া। তাই প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, প্লাস্টিক পণ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং উৎপাদকদের দায়িত্বশীলতা দ্রুত নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

বাকৃবিতে বিড়ালপ্রেমীদের মিলনমেলা ও ‘ক্যাট শো’
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
‘পীর’ হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে বাম জোটের বিক্ষোভ
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
নারী গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সেমিনার ও স…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
এনসিপিতে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন, ফেসবুক পোস্টে যা বললেন রুমিন ফা…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
‘জনতার নির্বাচিত সরকার— মব সামলান’ স্ট্যাটাসের পর সমালোচনা,…
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
  • ১১ এপ্রিল ২০২৬
close