বিরল রোগে আক্রান্ত বরিশালের সাগর মাহমুদ বাঁচতে চায়

৩০ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:৪০ PM
অসুস্থ সাগর মাহমুদ

অসুস্থ সাগর মাহমুদ © টিডিসি ফটো

বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশালের সাগর মাহমুদ দীর্ঘদিন যাবৎ কষ্ট ভোগ করে আসছেন। চোখে মুখে বেঁচে থাকার আকুতি তার। দরিদ্র মা-বাবা পারছেন না ছেলের চিকিৎসা খরচ মেটাতে। তাই মানবিক সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন দেশের মানুষের দোয়ারে।

জানা যায়, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের একজন ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীর ছেলে সাগর মাহমুদ। সদ্য
শেষ হওয়া মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) শেষ করে আছেন ফলাফলের অপেক্ষায়। চোখে তার স্বপ্ন, ফলাফলের পরে ভর্তি হবেন কলেজে। তারপর হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে; হাল ধরবেন একদিন অসচ্ছল বাবার সংসারের।

এমন সব স্বপ্ন দেখেই রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলো সাগর। সবই ছিল অন্য সব দিনের মতো ঠিকঠাক। কিন্তু সকালবেলা ঘুম ভাঙলে সাগর লক্ষ করলো কিছুতেই সে নিজের হাত-পা নড়াচড়া করতে পারছে না। বাবা-মাকে ডাকলে তারা কিছু না বুঝেই ছেলেকে নিয়ে যায় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছেন সাগর বিরল প্রজাতির রোগ গুলেন বারি সিনড্রোম বা সংক্ষেপে (জিবিএস) রোগে আক্রান্ত। যে রোগে দেশে এক লাখে ৫ জন লোক আক্রান্ত হয়ে থাকে।

কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন ও প্লাজমাফেরিসিস পদ্ধতিতে করা হয় জিবিএসের চিকিৎসা। প্লাজমা পরিবর্তনের জন্য সরকারি হাসপাতালে দৈনিক খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আর বেসরকারি হাসপাতালে তা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিন ইনজেকশনের পুরো কোর্স শেষ করতে ৭-৮ লাখ টাকা খরচ হয়। সঙ্গে যোগ হয় আইসিইউ ভাড়া। সব মিলিয়ে প্রয়োজন প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা।

একজন ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীর পক্ষে এত টাকা সংগ্রহ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। বর্তমানে সাগর মাহমুদ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে।

সাগরের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, গিয়েন বারে সিনড্রোম (Guillain Barré syndrome) বা ল্যান্ড্রির প্যারালাইসিস, প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণকারী অ্যাকিউট বা তীব্র পলিনিউরোপ্যাথি রোগ। যার ফলে হাত-পা খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। কোন সংক্রমণ বা ইনফেকশনের পর এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। অনুভূতিতে ভিন্নতা কিংবা ব্যাথার পর হাতে এবং পায়ে দুর্বলতা দেখা যায়। যা খুব দ্রুত পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। রোগ খুব তীব্র হলে প্রাণঘাতী হতে পারে, তখন কৃত্রিমভাবে শ্বাসকার্য চালানোর জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট বা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। কিছু ব্যক্তির স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে ডিসঅটোনমিয়া হলে হৃদ স্পন্দন ও রক্তচাপে গোলযোগ দেখা যায়।

তিনি আরো জানান, ক্লিনিক্যালি এই রোগ অন্যান্য বিকল্প কারণ ব্যতিরেকে স্নায়ু পরিবহন পরীক্ষা ও সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন, তাদের আন্তঃশিরা ইম্যুনোগ্লোবিউলিন বা প্লাসমাফেরেসিসের মাধ্যমে নিবিড় পর্যবেক্ষণে উত্তরণ হওয়া সম্ভব। যদিও কিছু ব্যক্তির ব্যাথা, হাঁটাচলায় সমস্যা থাকতে পারে।

সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা সহযোগীাতার জন্য সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। সহযোগীতা পাঠাতে নিম্নের একাউন্ট গুলো অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

হিসাব নাম্বার: ২০৫০৭৭৭০১০০০৪২৫০০
ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লি.

বিকাশ নাম্বার: ০১৭২৩৫৩১৪৮১ (পার্সোনাল)

১০ সরকারি কলেজে নতুন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
শত্রুদের জন্য হরমুজ প্রণালিকে ‘মৃত্যুকূপ’ বানানোর হুঁশিয়ারি…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা: সংকট ও সম্ভাবনা
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
ফের ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিলেন ট্রাম্প
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
কঠোর প্রধানমন্ত্রী, এমপি-মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ডে গোয়েন্দা নজর…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রতারণা ও অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ অ্যালায়েন্স কনসালটেন্সির…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬