আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, মাগুরায় শিশু ধর্ষণ প্রসঙ্গে হাইকোর্ট

০৯ মার্চ ২০২৫, ১০:০৮ PM , আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৫ PM
হাইকোর্ট

হাইকোর্ট © ফাইল ফটো

‘এত বড় অন্যায়-অবিচার আর হতে পারে না। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এগুলো দমাতে হবে।’ মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় এক রিটের শুনানিতে রবিবার (৯ মার্চ) এমন মন্তব্য করেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালত বলেন, ধর্ষণের মতো পাশবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে এ বিষয়ে আমাদের সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী এবিএম হামিদুল মিসবাহ ও সৈয়দ মাহসিব হোসেন।

রিটের শুনানি শেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মাগুরার সেই শিশুটির সব ছবি, ভিডিও ও নাম-পরিচয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী শিশু ও তার ১৪ বছর বয়সী বড় বোনের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদেশের পরে সৈয়দ মাহসিব হোসেন জানান, দুজন সমাজসেবা কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকায় একজন শিশুটির দেখাশোনা করবেন। আরেকজন মাগুরায় শিশুটির বোনকে দেখাশোনা করবেন। কারণ, ভুক্তভোগীর বিবাহিত বোনটিও শিশু। তার শ্বশুর বাড়ি হচ্ছে ঘটনাস্থল। সেখানেও সে নিরাপদ নয়। তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এই দুই অফিসার কাজ করবেন। ১৭ তারিখের মধ্যে বিবাদীরা আদালতের আদেশের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবেন।

বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, আইনে আছে ১৮০ দিনে বিচার সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে কোর্ট এটাকে বাইপাস করতে পারলো না। তার জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারটা শেষ করার কথা বলেছেন।

এবিএম হামিদুল মিসবাহ বলেন, বিটিআরসি ও সাইবার পুলিশকে বলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে সমস্ত কনটেন্ট (নাম, ছবি, পরিচয়) আছে সেগুলো রিমুভ করতে। কারণ আইনের ১৪ ধারায় নাম পরিচয় প্রকাশে বিধিনিষেধ আছে। এছাড়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ তদন্ত কমিটিকে একটা গাইডলাইন বানাতে বলেছেন। যাতে করে সারা দেশে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দমনে ভিকটিমদের সাপোর্ট দেওয়া যায়।    

আইনের ১৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনে বর্ণিত অপরাধের শিকার হয়েছেন এইরূপ নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা তত্সম্পর্কিত আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য বা নাম-ঠিকানা বা অন্যবিধ তথ্য কোনো সংবাদপত্রে বা অন্য কোনো সংবাদ মাধ্যমে এমনভাবে প্রকাশ বা পরিবেশন করা যাবে যাতে ওই নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায়।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করা হলে ওই লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের প্রত্যেকে অনধিক দুই বছর কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

তদন্তের বিষয়ে আইনের ১৮ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভিন্নতর যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের তদন্ত- (ক) অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হলে বা অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধৃত হয়ে পুলিশের নিকট সোপর্দ হলে, তার ধৃত হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী পনের কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে; অথবা (খ) অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনের সময়ে হাতেনাতে ধৃত না হলে তাহার অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য প্রাপ্তি বা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা তার নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা ট্রাইব্যুনালের নিকট হতে তদন্তের আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে পরবর্তী ষাট কার্য দিবসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

(২) কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ সমাপ্ত করা সম্ভব না হলে, তদন্তকারী কর্মকর্তা কারণ লিপিবদ্ধ করে অতিরিক্ত ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে অপরাধের তদন্ত কার্য সম্পন্ন করবেন এবং তৎসম্পর্কে কারণ উল্লেখ পূর্বক তার নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, তদন্তের আদেশ প্রদানকারী ট্রাইব্যুনালকে লিখিতভাবে অবহিত করবেন।

বিচার সম্পর্কে ২০ (১) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন কোনো অপরাধের বিচার কেবলমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য হবে। (২) ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা চলবে। (৩) বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে একশত আশি দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য সমাপ্ত করবে।

মাগুরা শহরতলীর নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে নেওয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) এনে ভর্তি করা হয় এবং পরে শুক্রবার রাতে তাকে ভেন্টিলেশনে নেওয়া হয়। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।

ধর্ষণের ঘটনার তিন দিন পর শনিবার (৮ মার্চ) শিশুর মা বাদী হয়ে সদর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এ মামলায় শিশুটির ভগ্নিপতি সজিব হোসেন (১৮) ও বোনের শ্বশুর হিটু মিয়া (৪২), সজিব শেখের এক ভাই (১৭) ও তাদের মা জাবেদা বেগমকে (৪০) আসামি করা হয়েছে। তাদের চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ট্যাগ: ধর্ষণ
শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
খুব কঠিন পথে আছি, আপনারা আমাকে হেল্প করুন: চিকিৎসকদের সহযোগ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধী…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মিরসরাই বসতঘর থেকে অজগর উদ্ধার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
৯ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence