জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট © টিডিসি ফটো
জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের গেটের সিঁড়িতে হতাশা আর গ্লানি নিয়ে বসে ছিলেন সাভার থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম। তার চোখে রাজ্যের কষ্ট আর তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। ছেলে কিডিনি রোগে আক্রান্ত। সপ্তাহে দুদিন করে ডায়ালাইসিস করাতে হয় তাকে। একে তো ছেলের চিন্তায় কাতর অন্যদিকে দুদিনে খরচ জোগাতে হিমশিম অবস্থা।
সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা যায়।
তিনি কাঁপা কাঁপা স্বরে বলেন, আমার ছেলেকে সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়, আল্লাহ যেন কাউকে এই ধরনের রোগ না দেন। এই রোগ যেমন কষ্ট, তেমনিভাবে আর্থিকভাবে একেবারে ফতুর করে দেয়। কিডনি রোগের চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের খরচ আমার পরিবারের জন্য এক বিশাল চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি জানান, সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করতে হয়, কল্পনা করা যায়! কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবে আমি প্রতিদিনই বিপর্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাই। কিডনি রোগের অসহনীয় যন্ত্রণা আমার ছেলের দিকে তাকালে আমি আশাহত হই।
আরও পড়ুন : শেকৃবিতে রাতে র্যাগিং হাতেনাতে ধরলেন উপাচার্য, দেখা মেলেনি প্রক্টর-ছাত্র পরামর্শকের
তিনি বলেন, আমার ছেলেকে প্রায় ছয় বছর ধরে ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করা হয়, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাপ্রক্রিয়া। প্রথম দিকে প্রতিবার ডায়ালাইসিসের জন্য ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতো, তবে সরকারি শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পর এ ব্যয় কমে ৫০০ টাকা হয়। এ ছাড়া ইনজেকশনের জন্য ৬০০ টাকা খরচ হয়।
এখন বাড়ি থেকে আসতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন কিডনি রোগীদের প্রথমে ভর্তি করা হয়। আমার ছেলেকেও প্রথমে ভর্তি করেছিলাম । কিন্তু এখন বাড়ি থেকে এসে ডাক্তার দেখাই।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে খুব ভালো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ড. শাহনুর ও ড. আশরাফুল ইসলামের চিকিৎসা অনেক সাহায্য করেছে।
চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ডাক্তাররা কখনোই তাদের অবহেলা করেননি। বরং তারা অত্যন্ত যত্নসহকারে চিকিৎসা দিয়েছেন, যা রোগীর জন্য অনেক সহায়ক।
কিডিনি চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবু আহাম্মদ আল-মামুনের কাছে গেলে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের লজিস্টিক সাপোর্ট রোগীকে কতটুকু সেবা দেওয়া সম্ভব, তা অনেকটাই নির্ভর করে হাসপাতালের সামর্থ্যের ওপর।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, কিছু জটিল টেস্ট রয়েছে, যেগুলো দেশে করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের দেশে প্রতিদিনই গবেষণা চলছে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উন্নত ইন্সট্রুমেন্ট এবং দক্ষ ম্যানপাওয়ার। সেই সঙ্গে এখানে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনও করা হয়।
বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে রেনাল হিস্টোপ্যাথলজি পরীক্ষার অভাব রয়েছে, যা কিডনি রোগের আরও সঠিক নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আরও পড়ুন : পাঁচ দাবিতে শহীদ মিনারে জমায়েত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের
ডায়ালাইসিসের বিষয়ে ডা. আল-মামুন বলেন, কিডনি রোগীদের মধ্যে দুটি প্রধান শ্রেণি রয়েছে, যাদের ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন। প্রথমত, Chronic Kidney Disease (CKD) বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের রোগীদের ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। এই রোগে কিডনি ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং রোগীকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করতে হয়। তবে অন্যদিকে Acute Kidney Injury (AKI) বা আকস্মিক কিডনি সমস্যা অনেক সময় সঠিক চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। এসব রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন পড়ে না।
এই চিকিৎসক আরও বলেন, ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয়তা রোগীর কিডনির অবস্থা ও রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে। রোগীদের সঠিক চিকিৎসা ও মানসম্মত সেবা প্রদানের জন্য আমাদের হাসপাতালে আরও দক্ষ চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবল প্রয়োজন।