জাফর ইকবালের বই ছিঁড়ে নদীতে ফেললেন বইপ্রেমী মামুন

১৮ জুলাই ২০২৪, ০৯:১০ AM , আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৫, ১১:৩১ AM
মাহমুদুল ইসলাম মামুন

মাহমুদুল ইসলাম মামুন © সংগৃহীত

সম্প্রতি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ স্লোগানে মর্মাহত হয়ে একটি চিরকুট লিখেছেন লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।  তবে এবার সংক্ষুব্ধ হয়ে লেখক জাফর ইকবালের লেখা এক বই ছিঁড়ে নদীতে ফেলেছেন মাহমুদুল ইসলাম মামুন নামে এক পরিবেশকর্মী ও বইপ্রেমী।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে তার ব্যক্তিগত আইডিতে ভিডিওটি পোস্ট করেন মামুন। সেখানে দেখা যায়, লেখকের ‘থিওরি অফ রিলেটিভিটি’ বইটির পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীতে ফেলছেন।

মাহমুদুল ইসলাম মামুনের বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগরে। পরিবেশকর্মী মামুনের গাছ এবং বই বিলানো নেশা। তার সংরক্ষণে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় বইসহ দেশের নামকরা অসংখ্য লেখকের বই। এসব বই স্থানীয়রা পড়ে আবার ফেরত দেন। এভাবেই চলছে তার দীর্ঘ বছরের কর্মযজ্ঞ। তিনি বাড়ির পাশের বেরং সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে জাফর ইকবালের লেখা বইটি ছিঁড়ে বেরং নদীতে ফেলছিলেন। সেটি ভিডিও করে নিজেই পোস্ট করেছেন ফেসবুকে।

১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আপনার (জাফর ইকবাল) লেখা অনেক বই আমি গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে পড়িয়েছি। অনেক কষ্টের টাকায় বইগুলো কিনেছি। আর নয়, আজকে আপনার বই আমি ছিড়ে ছিড়ে নদীতে ফেলব। আজকে গ্রাম-গঞ্জে থেকেও আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি আপনাকে ভাসিয়ে দিলাম। আপনার মতো বোদ্ধা, অসাধুদের উস্কে দেয়ার মতো মানুষের প্রয়োজন নেই। 

তিনি আরও বলেন, আপনি আর বই লেখিয়েন না। আমাদের অনেক প্রকাশকও আপনার লেখা আর ছাপাবে না। সবাই জানেন আমি অনেক বছর ধরে ঘুরে ঘুরে বই পড়াই, এখনও পড়াব। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পড়ানোর জন্য বাংলাদেশে অনেক লেখক রয়েছে, আমি তাদের বই পড়াব। আপনার এরকম কাল্পনিক বৈজ্ঞানিক কাহিনি আর লাগবে না। বড় দুঃখে এই কাজ করলাম।

এ বিষয়ে মামুন বলেন, জাফর ইকবাল কোটা সংস্কার আন্দোলনের মত যৌক্তিক আন্দোলনের বিষয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর প্রতিবাদ স্বরূপ বই ছিড়েছি। তার (জাফর ইকবাল) লেখা আরও অনেক বই আমার সংরক্ষণে আছে, এখন থেকে সেসব বই আর পড়াবো না এবং বিতরণও করবো না।

এদিকে, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই বিক্রি না করার ঘোষণা দিয়েছে বুকস অব বেঙ্গল। বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বই কেনার প্ল্যাটফর্ম বুকস অব বেঙ্গল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ৭৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছেন। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বুকস অব বেঙ্গল।

ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে বুকস অব বেঙ্গল জানায়, ‘অনেকের মতো আমরাও একটা সময় মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা পড়ে বড় হয়েছি। অনেকের মতো আমাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ কোটা আন্দোলন নিয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উনি যে ধরনের বক্তব্য প্রদান করেছেন সেটা কোনোভাবেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

আরও পড়ুন: জাফর ইকবালের বই বিক্রি না করার ঘোষণা বুকস অব বেঙ্গলের

তারা আরও লেখেন, ‘আমরা এ বক্তব্যের ধিক্কার জানাই। আমাদের প্রতিবাদ হিসাবে আজকের পর থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবালের কোনো বই বুকস অব বেঙ্গল বাংলাদেশ বিক্রি করবে না।’

এর আগে মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা একটি চিঠির একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এতে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয়, আর কোনোদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়তো সেই ‘রাজাকার’। আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন, সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’

তবে গণমাধ্যমকে জাফর ইকবাল বলেন, কোটা সংস্কার করতে হবে। বিষয়টাকে আমি সমর্থন করি। কিন্তু আন্দোলনের নামে মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার ব্যাপারটি কোনোভাবেই সমর্থন করি না।

 
বাগেরহাটে ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাল এনটিআরসিএ
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৩ পরিবারকে সহায়তা
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নেবে ওয়ান ব্যাংক, আবেদন শেষ ১৮ মার্চ
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টাকে ‘মীরজাফর’ আখ্যা দিল জামা…
  • ০৫ মার্চ ২০২৬
চাপে বেঁকে গেল ৭০ বছরের পুরোনো রেলপথ
  • ০৫ মার্চ ২০২৬