ঢাকার চা-দোকানের ৯৪ শতাংশ পানিতেই মলের জীবাণু

০৯ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০৮ PM , আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:৩৪ PM
চা-দোকান

চা-দোকান © ফাইল ছবি

ঢাকা নগরীর ফুটপাতের চায়ের দোকানে ব্যবহৃত পানির ৯৪ শতাংশেই মলের জীবাণু পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকার পানির মান নিয়ে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ পানিতে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া এবং ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ পানিতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্ষতিকর জীবাণু ও ধাতুর সংক্রমণে মানুষ প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি দূষিত এমন পানি পানে হতে পারে মৃত্যুও।

গবেষণায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫০টি ওয়ার্ড থেকে দৈবচয়নের মাধ্যমে ১৫০টি নমুনা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩২টি ওয়ার্ড থেকে ৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাস্তার পাশের চায়ের দোকান ও খাবার বিক্রির দোকান থেকে এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় সঠিক তথ্য নিশ্চিতে সংগৃহীত নমুনা শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় আনা হয়। মাত্র দুই ঘটনার মধ্যে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত পানির নমুনার পরীক্ষা শুরু হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর দোকানিদের সংগ্রহ করা পানির মধ্যে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ রিকশা-ভ্যান থেকে, ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ মোটর ভ্যান থেকে, ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ পানি গভীর নলকূপ থেকে, ওয়াসা থেকে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যান্য মাধ্যম থেকে ৫ দশমিক ১ শতাংশ পানি সংগৃহীত হয়।

ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির ৯৪ শতাংশ পানির নমুনায় ফিক্যাল কলিফর্ম (পেটের পীড়া ও ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণু ই-কোলাই) পাওয়া গেছে। গবেষণায় ঢাকা উত্তর সিটির ৪৪ শতাংশ নমুনায় এয়ারোবিক কলিফর্ম (বায়ু থেকে পানিতে মিশ্রিত ব্যাকটেরিয়া) পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সিটির নমুনায় এ ধরনের জীবাণু ছিল ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ পানির নমুনায় মাত্রাতিরিক্ত ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আয়রন (লোহা) পাওয়া গেছে ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ নমুনায়। এসব নমুনায় জিংকের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

রোগতত্ত্ববিদ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ফিল্টার পানির নামে যাঁরা জারে ভরে পানি সরবরাহ করেন, তাঁরা মূলত প্রতারণা করেন। কারণ এসব পানি মানসম্পন্ন ফিল্টার করা হয় না। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল, পৃথিবীর ৭০০ মিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জাতিসংঘ ২০০২ সালের মানবাধিকার ঘোষণায় পানিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করে। এসডিজির ৭ নম্বর লক্ষ্যমাত্রায়ও ছিল নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘এই গবেষণা যখন পরিচালিত হয়েছে, তখন আমি এই প্রতিষ্ঠানে ছিলাম না। তা ছাড়া গবেষণা যখন সম্পন্ন হয়েছে, তখন দেশের করোনা পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক পর্যায়ে। তাই এটি প্রকাশ বা প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়নি। তবে গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি থেকে ঢাকার পানি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকাবাসীর অসুস্থতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।’

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা শুরু হয় ২০২০ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত। ২০২১ সালের মার্চ ও এপ্রিলে নমুনা সংগ্রহ, এপ্রিল ও মে মাসে নমুনা পর্যালোচনা এবং জুন মাসে প্রতিবেদন প্রস্তুত ও চূড়ান্ত করা হয়। তবে এই গবেষণায় পাওয়া ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ বা প্রচার করা হয়নি।

সরকারি ক্যাম্পেইনের ব্যানারে ‘ধানের শীষে ভোট দিন’ লেখা নিয়ে…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে চাকরি, অভিজ্ঞতা থাকলেই করুন আবেদন
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
‘বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে’
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ফেনীতে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ব্যাটিং ব্যর্থতায় টেনেটুনে একশ ছাড়ানো পুঁজি রংপুরের
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
কুড়িগ্রামে গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9