১৪ বছরে আওয়ামী লীগ কী দিয়েছে, বিচারের ভার আপনাদের: প্রধানমন্ত্রী

০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৪৩ PM , আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩০ PM

© সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে একটানা ১৪ বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে। এই ১৪ বছরে আমরা দেশ এবং দেশের জনগণকে কী দিতে পেরেছি, তার বিচার-বিশ্লেষণ আপনারা করবেন। বর্ষপূর্তিতে আমি শুধু কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করে আপনাদের স্মৃতিকে নাড়া দিতে চাই।

টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের চতুর্থ বছরপূর্তি উপলক্ষে আজ শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখনও বিশ্বব্যাপী মন্দাবস্থা চলছিল। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ছিল আকাশচুম্বী। অপরদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ছিল নিম্নমুখী। বিদ্যুতের অভাবে দিনের পর দিন লোডশেডিং চলতো। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার মালিকেরা যেমন হাহাকার করতো, তেমনই চুলা জ্বলতো না মানুষের বাড়িতে। সারসহ কৃষি উপকরণের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানি তেলের অভাবে কৃষকের নাভিশ্বাস উঠেছিল। এমনই এক অর্থনৈতিক দূরবস্থার মধ্যে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেই।

নির্বাচনি ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘রূপকল্প-২০২১’ প্রণয়নের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর সেই ইশতেহারের আলোকে আমরা আশু করণীয়, স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, স্থবির অর্থনীতিকে সচল করতে শুরুতেই কৃষি, জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ শুরু করি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি ছোট বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করি। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আমরা মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই রাসায়নিক সারের দাম কমিয়ে দেই। এরপর আরও দু-দফায় সারের দাম হ্রাস করে কৃষকের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আনা হয়। এমনিভাবে প্রতিটি খাতে আমরা পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেই।

‘রূপকল্প ২০২১’ সালের পর ‘রূপকল্প ২০৪১’ এবং ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রূপকল্প ২০২১-এ আমরা অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলাম। আজকে সন্তুষ্টচিত্তে বলতে পারি, আমরা সে প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম হয়েছি। রূপকল্প-২০৪১ লক্ষ্য হচ্ছে— ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করা। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এর লক্ষ্য হচ্ছে— জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে একটি টেকসই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে হিসেবে টিকিয়ে রাখা।

সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায়। নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ধিত চাহিদা মেটানোর জন্য আমরা এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করে এলএনজি আমদানির ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত আজ  মধ্যবিত্ত-নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে গ্যাসের চূলায় রান্না হয়।’

বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সেতু দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে সড়ক পথে ঢাকা এবং অন্যান্য জেলার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করেছে। গত ২৮  ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আমরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই শুধু বাংলাদেশেই নয়, চট্টগ্রামে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পাতাল সড়কপথ- বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের মাধ্যমে আরেকটি মাইলফলক স্থাপিত হবে। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আমরা ২০১৮ সালের মে মাসে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছি।

ভাষণের শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের চার বছরপূর্তি উপলক্ষে এবং ইংরেজি নতুন বছরে দেশবাসী এবং প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম জানান তিনি।

এছাড়া ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নিহত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত এবং ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস এবং পেট্রোল বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন বঙ্গবন্ধকন্যা।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, বিভিন্ন রেডিও স্টেশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে: র‍্যাব মহাপরিচ…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
বক্তব্য ছাড়া সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান রাশেদ খানের
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
পুকুরে মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল ৩ বছরের হুমায়রার
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
আজ প্রধান উপদেষ্টার হাতে নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন দিবে প…
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
গাজার ‘বোর্ড অব পিস’ এ পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিমি খাল খনন করা হবে: তারেক রহমান
  • ২১ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9