সাব রেজিস্ট্রে অফিস, বরিশাল © সংগৃহীত
ঘুষ খাওয়া বেআইনী হলেও, আইন মানে আর ক'জন! তবে এখন মাথা ওয়ালা মানুষ ছাড়াও ঘুষ খায় অফিসের চেয়ার-টেবিলও। বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি ও সেটেলমেন্ট অফিসে এমইন চিত্র স্পষ্টত হয়ে উঠেছে। আবু বকর নামে এক ভুক্তভোগী গ্রাহক বলেন, সাব রেজিস্ট্রে অফিসে টাকা ছাড়া কোনো করা যায়। প্রতিটি টেবিলের জন্য নির্দিষ্ট টাকা বরাদ্দ থাকে। টাকা না পৌঁছালে কোনো দলিলের কাজ আগায় না। অতিরিক্ত টাকা দেয়া এ অফিসের নিয়ম।
অন্য এক গ্রাহকের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজে সরকারি ফি নির্দিষ্ট থাকলেও অতিরিক্ত ফি ছাড়া কোনো কাজই হয় না।
তন্ময় রাড়ি নামে আরেক ভুক্তভোগী জানান, তিন মাস ঘুরে সরকারি ফি জমা দিয়ে দলিল ঠিক করতে চেয়েছেন তিনি। পরে না পেরে ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়েছে তাকে।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহার বেড়েছে
করিম হোসেন নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, আমরা শহরে থেকেই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়মের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারি না। গ্রাম থেকে আসা মানুষদের আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি জেলা রেজিস্ট্রার। তবে বরিশাল সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপার বিধান চন্দ্র সুতার তল্লাশিকারকদের নির্দিষ্ট ফির চেয়ে বেশি টাকা নেবার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, যথাযথ প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
একই চিত্র সেটেলমেন্ট অফিসেরও। সেখানেও ছোট-বড় সব কাজের বিনিময়েই চলছে অতিরিক্ত টাকার লেনদেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার বিকাশ চন্দ্র হাওলাদার বলেন, অফিসের কেউ যদি ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরিশাল জেলায় জমির মৌজার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০টি। এ ছাড়া ৬৯টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও ১০টি উপজেলা ভূমি অফিস রয়েছে।