করোনা মহামারি ইসলাম কি বলে?

০৯ মার্চ ২০২০, ০৯:১৯ PM
মো. আবু রায়হান

মো. আবু রায়হান © টিডিসি ফটো

সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববাসী আতঙ্কিত।বাংলাদেশে এই প্রথম তিনজন করোনা ভাইরাস রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১০৪টি দেশ ও অঞ্চলে। সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাইরাসের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ঝং নানশান জানিয়েছেন আগামী জুন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চীনে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১১৯ জনে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ জন। দেশটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৮০ হাজার ৭৩৫ জন। বিশ্বজুড়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৬২ হাজার ২৭৬ জন। মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে চীনের পরে আছে ইতালি। দেশটিতে ৩৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে । এরপর রয়েছে ইরান সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১৯৪ জনের। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫১, যুক্তরাষ্ট্রে ২২, ফ্রান্সে ১৯, স্পেনে ১৭, জাপানে ৭, ইরাকে ৬, যুক্তরাজ্যে ৩, নেদারল্যান্ডসে ৩, হংকংয়ে ৩, অস্ট্রেলিয়ায় ৩, সুইজারল্যান্ডে ২, মিশরে ১, তাইওয়ানে ১, থাইল্যান্ডে ১, সান মারিনোতে ১, আর্জেন্টিনায় ১ ও ফিলিপিন্সে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ডায়ামন্ড প্রিন্সেস জাহাজে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা ভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায় ।মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনা ভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনা ভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়।এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে ‘নোভেল করোনা ভাইরাস।

চীন থেকে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত ভাইরাস করোনা। চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস ঘিরে ক্রমেই ছড়াচ্ছে আতঙ্ক. ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রমণ দেখা দেয়। যে ভাইরাসের সাথে কিছুদিন আগেও মানুষ পরিচিত ছিল না। কারণ এই ভাইরাস এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি। তবে ২০০২ সালে চীনে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামের একটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল, যাতে সংক্রমিত হয়েছিল ৮ হাজার ৯৮ জন। মারা গিয়েছিল ৭৭৪ জন। সেটিও ছিল এক ধরনের করোনা ভাইরাস। যার লক্ষণগুলো হলো- জ্বর,কাশি, শ্বাস-কষ্ট বা নিউমোনিয়া।

ইসলাম একটি পূর্নাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ।মানবজীবনের সব সমস্যার সমাধান আছে বলেই এই জীবনব্যবস্থা সকল যুগের সকল মানুষের উপযোগী। ব্যাপক হারে মানুষ আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হলে আল্লাহ পাক পৃথিবীতে গজব নাজিল করেন।কিয়ামতের নিদর্শনগুলোর একটি হলো মহামারি। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে ঘটবে মহামারি, বকরির পালের মহামারির মতো, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দিনার দেয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে, যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যুদ্ধবিরতির চুক্তি, যা তোমাদের ও বনি আসফার বা রোমকদের মধ্যে সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং ৮০টি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে ১২ হাজার সৈন্য। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১৭৬)। আল্লাহর অবাধ্যতা, সীমালঙ্ঘন ও অবাধ পাপাচার মহামারির অন্যতম প্রধান কারণ হলেও শুধু পাপীরাই তাতে আক্রান্ত হয় না; বরং সৎ ও নেককার মানুষও তাতে আক্রান্ত হয়।বাংলা ভাষায় একটি শ্লোক আছে "নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।"

সঠিকভাবে দ্বীনি দায়িত্ব পালন করলে হয়তো উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন চীনে কুরআনে সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়ায় এমন মহামারি। তাহলে তারা ইরানের দুই শতাধিক মুসলমানের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন। অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এরশাদ করেছেন, ‘'তোমাদের আগের যুগে আমি যাদের রক্ষা করেছিলাম তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন ছাড়া সজ্জন ছিল না—যারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে নিষেধ করত। তারা সীমালঙ্ঘনকারীরা যাতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পেত তারই অনুসরণ করত এবং তারা ছিল অপরাধী।’' (সুরা হুদ, আয়াত : ১১৬)
কোরআন ও হাদিসের ভাষ্য মতে মহামারি পৃথিবীতে আল্লাহর একটি শাস্তি। যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার মতো জঘন্য পাপ বেড়ে যায়, তখন আল্লাহ তাদের মহামারির মাধ্যমে শাস্তি দেন। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘'যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগের লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি রাসুল (সা.)-কে প্লেগ রোগ (মহামারি) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁকে জানান, এটি হচ্ছে এক ধরনের শাস্তি। আল্লাহ যার ওপর তা পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনের জন্য রহমত বানিয়েছেন। অতএব প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে এবং এ বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না। তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহীদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৭৩৪)

মহামারি বা গজব দেখা দিলে তখন করণীয় কী? ইসলাম এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। যে কোন মহামারি থেকে বাঁচতে প্রথম ও প্রধান করণীয় হচ্ছে- নিজেদের কৃতকর্ম থেকে তাওবা করা এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করা।
এই মুহূর্তে আমাদের সবার উচিত, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকা। সর্বদা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা।যেকোনো বিপদে বান্দা আল্লাহমুখী হোক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা করুক এটাই মহান প্রতিপালক আল্লাহর চাওয়া। পবিত্র কোরআনের একাধিক স্থানে বিপদে আল্লাহমুখী হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনীত হলো না এবং কাতর প্রার্থনাও করে না।’ (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৭৬)

হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দোয়াটি সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো বিপদ হঠাৎ চলে আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার পাঠ করবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। দোয়াটি হলো, ‘বিসমিল্লা-হিল্লাজি ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম’, অর্থ : ‘আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮৮)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, (রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য) নবী (সা.) পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া মিন সাইয়্যিল আসকাম’, অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৫৫৪)

অতীতেও আল্লাহ তায়ালা পাপাচারের শাস্তি হিসেবে মহামারি প্রাদুর্ভাব ঘটান এবং সেসব জাতিকে ধ্বংস করে দেন।হযরত দাউদ (আ.) এর যুগে এমন ঘটনা ঘটেছিল। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, '‘তুমি কি তাদের দেখনি যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে স্বীয় আবাসভূমি ত্যাগ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের বলেছিলেন, তোমাদের মৃত্যু হোক। তারপর আল্লাহ তাদের জীবিত করেন। ...’' (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৪৩)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘'তারা সংখ্যায় ছিল চার হাজার। মহামারির ভয়ে তারা পালিয়ে ছিল। তারা বলেছিল, আমরা এমন ভূমিতে যাব যেখানে মৃত্যু নেই। অতঃপর তারা এক স্থানে একত্র হলো। তখন আল্লাহ তাদের ওপর মৃত্যুর ফরমান জারি করেন।'’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)

এ ছাড়া একটি হাদিসের বর্ণনা থেকে জানা যায় আল্লাহ অতীতের কোনো কোনো গোত্রকে মহামারির মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেন, ‘এটি আল্লাহর গজব বা শাস্তি বনি ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার অবশিষ্টাংশই মহামারি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১০৬৫)

বেশির ভাগ মহামারিই সংক্রামক। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) মহামারির সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত অঞ্চলে যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছেন। মুমিনগণ ঈমান ও ইখলাসের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করবে।

হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) হতে বর্ণিত রাসুল( সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন কোন এলাকায় (প্লেগের) প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে যেয়োনা। আর যদি কোন এলাকায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেমে আসে এবং তোমরা সেখানে থাক, তাহলে পলায়ন করে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।(বুখারী )।

চীন করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার সাধারণ যে উপায় অবলম্বন করছে, দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবি (সা.) সে উপদেশ দিয়ে গেছেন। তাহলে কি চীনে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর হাদিসের সেই আমলকে কি অনুসরণ করা হচ্ছে।এ রোগের সয়লাব ঠেকাতে চীন সরকার হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে রোগীসহ কোনো মানুষকে অন্য শহরে পাঠাচ্ছে না। আবার অন্য শহর থেকে কোনো মানুষকেও এ শহরে প্রবেশ করতে দেয়নি। যাতে এ রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।চীনের এ হুবেই প্রদেশে বসবাস করে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ। চীন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আলোকে এ শহর থেকে দেশি কিংবা বিদেশি কোনো মানুষকেই এখনই স্থান ত্যাগ তথা বিদেশিদের নিজ নিজ দেশে যেতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।সহিহ বুখারির বর্ণনায় পাওয়া যায় শামে মহামারি দেখা দিলে ওমর (রা.) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর স্থগিত করেন। (হাদিস : ৫৭২৯)।

তাই আমাদের উচিত, যেখানে এ ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা দেবে, সেখানে যাতায়াত থেকে বিরত থাকা। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ সরকারিভাবে করোনা আক্রান্ত দেশগুলোতে যাতায়াতে সতর্কতা জারি করেছে। যেহেতু চিকিৎসকদের মতে এ ভাইরাসটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।চীনের মূল ভুখন্ড থেকে আসা যে কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে দু সপ্তাহ কোয়ারেনটিন করে রাখা হচ্ছে , অর্থাৎ জনবিচ্ছিন্ন অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।শুধু চীন কেন অনেক দেশই কোয়ারেনটিন পদ্ধতি অনুসরণ করছে। এটি সরাসরি হাদিসের আমল, যা দেড় হাজার বছর আগেই ঘোষণা করেছিলেন বিশ্বনবি (সা.)।
বিশেষজ্ঞদের মতে,কোনো সুস্থ ব্যক্তি যখন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দেওয়া হাঁচি বা কাশির সুক্ষ্মকণা শ্বাসপ্রশ্বাস বা হাতের স্পর্শের মাধ্যমে মুখে নেন, তখন তার দেহেও করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে।হাঁচির মাধ্যমে শরীরে আটকে পড়া ধোঁয়া,জীবাণু ও গ্যাস বের হয়ে যায়।সুরক্ষার উপায় হিসেবে বলা হচ্ছে নিয়মিত হাত ধোয়া।হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে।মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সময় যে ওযু করে থাকেন এর এটি তারই অনুসরণ। ইসলামে হাঁচি দেয়ার সময় আদব হল হাত বা কাপড় দ্বারা মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে, যাতে শব্দ কম হয় এবং মুখ ও নাকের ময়লা কারও গায়ে ছুটে গিয়ে না লাগে। (আহকামে জিন্দেগী)।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে চীনে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেউ কেউ বলছেন, ‘চীনারা ইঁদুর, বাদুড়, কুকুর, বিড়াল জাতীয় বন্যপ্রাণী খাওয়ার কারণে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে।অথচ হিংস্র পশু, যা থাবা মেরে আক্রমণ করে খায়। সেসব পশু খাওয়া ইসলামে হারাম করা হয়েছে। যেমন- বাঘ, সিংহ, শিয়াল, কুকুর, বিড়াল, বানর, হাতি ইত্যাদি।পশু-পাখির ক্ষেত্রেও ইসলামের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। এর মধ্যে কিছু হালাল আর কিছু হারাম করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা যা হারাম করেছেন, বাস্তবেও সেগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার যোগ্য। কেননা নিষিদ্ধ প্রাণিকুলকে দেখা যায়, কখনো তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, অথবা নাপাক, নিকৃষ্ট ও ঘৃর্ণিত, যা একজন জ্ঞান ও বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন মানুষ কখনো খেতে পছন্দ করে না। একটু চিন্তা করলে সেগুলোর মধ্যে আরো অনেক নিষিদ্ধের কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, 'হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের জীবিকারূপে যে উৎকৃষ্ট বস্তুসমূহ দিয়েছি, তা থেকে খাও এবং আল্লাহর শোকর আদায় করো, যদি সত্যিই তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করে থাকো। তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, প্রবাহিত রক্ত, শূকরের গোশত এবং ওই সব প্রাণী, যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা হয়।' (সুরা বাকারা ,আয়াত- ১৭২, ১৭৩)

মহামারিতে মারা গেলে শহিদের মর্যাদা।আল্লাহ তায়ালা শাস্তি হিসেবে মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটান। যেন বান্দা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। সুতরাং মহামারি দেখা দিলে কোনো বান্দা যদি আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে তাওবা করে এবং রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ মোতাবেক ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়, তবে আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন।মহামারি আল্লাহর গজব হলেও এতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপী-জাহান্নামি মনে করা যাবে না। রাসুল (সা.)-এর ভাষায় মহামারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিও শহীদ। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহিদ—মহামারিতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহিদ হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)।অপর হাদিসে এরশাদ করা হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, মহামারিতে মৃত্যু হওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত। (সহিহ বুখারি, হাদিস - ২৮৩০)

হাদিসের ভাষ্য আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকাংশেই মিলে যায়; বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে প্রাচুর্য বেড়েই চলছে।প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগ আত্মপ্রকাশ করছে। এগুলো বন্ধ করার সাধ্য কারো নেই। তবে এই পরিস্থিতিতে আমরা আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারি।

আল্লাহ তায়ালা বিশ্বের সকলকে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন এবং করোনাসহ সর্বপ্রকার মহামারি থেকে আমাদের হেফাজত করুন। আমিন!

লেখক: শিক্ষক ও গবেষক

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ইরান
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ঈদ পরবর্তী চারদিন বন্ধ থাকবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ডিআইইউ আইন বিভাগ থেকে আইনজীবী হলেন ৬২ শিক্ষার্থী
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
চীনা দূতাবাসের উপহারকে নিজেদের যৌথ উদ্যোগ বলে প্রচার জামায়া…
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
অবসরের ঘোষণা দিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
নাটকীয়ভাবে ফাইনালের দুই মাস পর মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence