আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস: স্থায়ী শান্তির জন্য শেখা

২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৪১ PM , আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৫, ০৩:১০ PM

© টিডিসি ফটো

প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শিক্ষা, উন্নয়ন এবং শান্তির প্রতি গুরুত্বারোপ করে এই দিবস ঘোষণা করে। ২০২৫ সালের এই দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘স্থায়ী শান্তির জন্য শেখা’, যা বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে শিক্ষার অপরিহার্য ভূমিকার উপর আলোকপাত করে।

বিশ্ব আজ নানা সংকটের মুখোমুখি—রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পরিবেশগত বিপর্যয়, বৈষম্য ও সহিংসতা। এই সংকটগুলোর মূল কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায়, এর মূলে রয়েছে অজ্ঞতা, অসচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের অভাব। আর এই অভাব পূরণ করতে পারে একমাত্র শিক্ষা।

শিক্ষা শুধু বইপত্রের জ্ঞান সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য শিক্ষার যে ভূমিকা রয়েছে, তা কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করা যায়। শিক্ষা মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ধারণা শেখায়। এটি শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তৈরি করে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলে। শিক্ষা মানুষকে ভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম এবং মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়। দারিদ্র্য এবং বৈষম্য শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান বাধা।

শিক্ষা দারিদ্র্য দূর করতে সহায়তা করে এবং সমান সুযোগ তৈরি করে। কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অর্জিত হয়, যা সমাজে স্থিতিশীলতা আনে। যেখানে শিক্ষার আলো পৌঁছায়, সেখানে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের অন্ধকার ম্লান হয়ে যায়। সহিংসতা ও উগ্রবাদের প্রতিরোধে শিক্ষা এক শক্তিশালী মাধ্যম। এটি বৈশ্বিক নাগরিকত্ব তৈরির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে শান্তির দূত হিসেবে গড়ে তোলে। শিক্ষা শুধু মানুষের মধ্যেই নয়, প্রকৃতি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা গড়ে তোলে। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন নাগরিক তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বাংলাদেশ, একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে, শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। নারী শিক্ষার হার বেড়েছে, তবে অনেক অঞ্চলে এখনও বাধাগ্রস্ত। পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার পরিমাণ বাড়ানো জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বোঝাতে শিক্ষাব্যবস্থায় মনোযোগ দেওয়া দরকার।

এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্থায়ী শান্তির জন্য শেখা’ শুধু একটি স্লোগান নয়, এটি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির জন্য সময়োপযোগী বার্তা। শিক্ষা মানুষের মধ্যে অহিংসা ও সহনশীলতার বীজ বপন করে। জাতিসংঘের ইউনেস্কো জানিয়েছে, বৈষম্য কমানোর জন্য শিক্ষা সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। শিক্ষা কেবলমাত্র যুদ্ধ ও সংঘাতের পর পুনর্গঠনের মাধ্যম নয়, এটি সংঘাত প্রতিরোধেরও মূল উপাদান। 

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে করা। কেবল শিক্ষার সুযোগ নয়, মানোন্নয়নেও জোর দেওয়া প্রয়োজন। পাঠ্যক্রমে মানবিক মূল্যবোধ, অহিংসা এবং শান্তির শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা। অনলাইন শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে শিক্ষা ছড়িয়ে দেয়া।

শিক্ষাই হল সেই আলো, যা অন্ধকারকে দূর করে। এটি শান্তির ভিত্তি এবং সমাজের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শান্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি—শিক্ষার মাধ্যমে এক শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলব। শিক্ষাই শান্তির ভিত্তি। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করা মানে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।

লেখক, 
পাবলিক রিলেশন অফিসার, ডিপার্টমেন্ট অব বিসিপিআর, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি।

ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় উত্তাল শাবিপ্রবি
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ফেসবুক লাইভে পুলিশ সার্জেন্টকে হুমকি, গ্রেপ্তার ১
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীতবস্ত্র বিতরণে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে কর্ন…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
মহেশখালীতে মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে ভয়াবহ অগ্নিক…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারি বরাদ্দের ৫ ভাগ টাকা কাজে লাগে, বাকিটা ভাগ-বাঁটোয়ারা…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
রেজাল্টে এগিয়ে থাকা ১১ জন আউট, নিয়োগ পেলেন প্রো-ভিসির কন্যা
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9