প্রকাশ পূর্ণাঙ্গ রায়

প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি বাধা নেই

২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ PM
হাইকোর্ট

হাইকোর্ট © সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা নিরসনের পথ খুলেছে।জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধা কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) আপিল বিভাগের ২৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন।

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর হয়েছে। তার মতে, এ রায় দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

২০১৭ সালে জাতীয়করণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের দাবি ছিল, জাতীয়করণের আগে চাকরির মেয়াদের ৫০ শতাংশ সময় গণনা করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন স্কেল, আর্থিক সুবিধা ও অন্যান্য প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবিও জানান তারা।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট রুল আংশিক মঞ্জুর করেন। ওই রায়ে জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা, ২০১৩-এর জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতিসংক্রান্ত ৯(১) বিধির অংশবিশেষ বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। পরে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিত আপিল করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

এসব আবেদনের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ গত ২ জুলাই রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে রায় দেন। সম্প্রতি ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয়করণ করা শিক্ষকদের চাকরির শর্ত নিয়ে বিরোধ

২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয়করণ করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আগে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের রূপরেখা তৈরির জন্য গঠিত কমিটি প্রাথমিকভাবে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের বিবেচনায় নিয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে এসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।

জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ গণনা, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিধিমালার ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। বিশেষ করে জাতীয়করণের আগে বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময়ের কতটুকু চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে গণনা করা হবে, তা নিয়ে আইনি বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরেই হাইকোর্টে রিট এবং পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগে মামলা হয়।

আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে এ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের নিষ্পত্তি হলো। তবে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রায়ের বাস্তবায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে।

বটি দিয়ে কুপিয়ে মাকে হত্যার অভিযোগ, আটক মেয়ে
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ: কখন জরুরি এন্ডোস্কোপি প্রয়োজন?
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
মসজিদ কি শুধু ইবাদতের জায়গা নাকি এর সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে?
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা কর কমিশনারের কার্যালয় ৯-এ নতুন বেতন স্কেলে ৩৮ পদে চাকর…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
তারেক রহমানের জাপান সফর: বিনিয়োগের অঙ্ক ছাড়িয়ে নতুন সম্ভাবন…
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রাথমিকের ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি বাধা নেই
  • ২৫ অক্টোবর ২০২৬