‘ডিভোর্স যেই দিক না কেন, স্বামীকে দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে’

০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ PM
ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার

ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার © সংগৃহীত

বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও যার পক্ষ থেকেই তালাক দেওয়া হোক না কেন, স্বামী নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধে বাধ্য। তবে অনেক ক্ষেত্রেই স্ত্রীর এই বৈধ অধিকার আদায় না হচ্ছে না। আজ রবিবার (৫ জুলাই) বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার।

তিনি বলেছেন, বিয়েতে নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধে স্বামী সবসময়ই বাধ্য এবং ডিভোর্স কে দিয়েছেন, সেটি এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় নয়।

ব্যারিস্টার ফাহমিদা আখতার বলেন, দেনমোহর ইসলামী শরিয়াহ ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্ত্রীর বৈধ অধিকার। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর বা বিয়ের সময় নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধ করা স্বামীর আইনগত দায়িত্ব। ডিভোর্স স্বামী বা স্ত্রী— যেই দিক না কেন, দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে স্বামী অব্যাহতি পান না।

তিনি বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী দেনমোহর পরিশোধ বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বিত দেনমোহর দীর্ঘ সময় পরও আগের নির্ধারিত অর্থমূল্যেই পরিশোধ করা হয়, যা নারীর ন্যায্য আর্থিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ বছর আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হলে এক লাখ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ এবং বাকি এক লাখ টাকা বিলম্বিত দেনমোহর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে দুই দশক পর বিচ্ছেদের সময় সেই একই এক লাখ টাকা পরিশোধ করে দায় শেষ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা পরিবর্তিত হওয়ায় এটি প্রকৃত অর্থে ন্যায়সংগত নয় এবং দেনমোহরের মূল উদ্দেশ্য নারীর আর্থিক সুরক্ষা ব্যাহত হয়।

এ কারণে বিবাহের এক বছর পর বা তার বেশি সময় পরে পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্যায়ন, আদায় পদ্ধতি ও বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। এতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। এছাড়া, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ১০ ধারার অধীনে দেনমোহর আদায়ে একটি সমন্বিত নির্দেশিকা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিবাহের তারিখের এক বছর পর প্রদেয় দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের পদ্ধতি নির্ধারণের মাধ্যমে নারীদের আর্থিক অধিকার সংরক্ষণ, আইনের অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ফাহমিদা আখতার বলেন, ‘এখানে ওয়াইড স্প্রেড একটা মিসকনসেপশন আছে যে, স্ত্রী যদি তালাক দেয় অথবা স্ত্রী যদি কোন কারণে চলে যায়, স্ত্রী যদি সংসার করতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে স্বামী দেনমোহর দিতে বাধ্য না। এটা কিন্তু আইন না। আমাদের আইন হচ্ছে— দেনমোহর দিতে স্বামী সবসময় বাধ্য। এখন ডিভোর্স কি কারণে হল, কে দিল, এটা এখানে মুখ্য বিষয় না। দেনমোহর হচ্ছে আইন প্রদত্ত একটি রাইট। উইমেনস রাইট ইন ম্যাট্রিমনি, যেটা এক্সারসাইজড হবে নো ম্যাটার হোয়াট যে এখানে ম্যারেজটা ডিসলভ কে করল।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে এই নীতিমালা যদি প্রণয়ন করা হয়, দিস উইল অ্যাক্ট অ্যাজ আ ইনসেন্টিভ, যাতে স্বামীরা ইনসেন্টিভাইজড হবে সাথে সাথে প্রম্পট ডাওয়ারটা (দেনমোহর) পে করে দিতে। কারণ বিলম্বিত ডাওয়ার যদি দেয়, সেটা কিন্তু টাকার অঙ্কে অনেক বেড়ে যাবে। যদি প্রম্পট ডাওয়ার পে করে দেয়া হয়, তাতে উইমেনস রাইট ইন ম্যাট্রিমনি, রাইটস অ্যান্ড ইন্টারেস্ট ইন ম্যাট্রিমনি— এটা আপহেল্ড হবে, সিকিউরড হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক 
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪-এর পরাজিত শক্তিকে আস্কারা দেবেন না: বিরোধী রাজনৈতিক দলের…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান—জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের প…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কমিটির হাতে ক্ষমতা, ভাইভা নম্বর বৃদ্ধি, এখন ভেরিফিকেশনে বাদ…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে জিজ্ঞাসাবাদ ক…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘রাষ্ট্রের মনে হয়েছে প্রাইমারিতে চাকরি করার জন্য যথেষ্ট যোগ…
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬