আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম © সংগৃহীত
পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার বিলম্বের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আসামিপক্ষ প্রায় প্রতিটি শুনানির দিনই বিভিন্ন আবেদন ও অজুহাতের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক নয়।
আজ সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের মামলায় প্রসিকিউশন বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি তারিখেই নতুন কোনো কারণ দেখিয়ে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করছেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন তার বোন নাজনীন নাহার। তিনি আদালতে কখনও আইনজীবীর অসুস্থতা বা মৃত্যুর কারণ দেখিয়ে, আবার কখনও বিভিন্ন নথি চেয়ে আবেদন করছেন। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব আবেদন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার বিলম্বিত করার কৌশলের অংশ।
তারা ট্রাইব্যুনালে এসে শুধু সময় চাইতে থাকেন, বলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী শুনানি থেকে জিয়াউল আহসান বা তার আইনজীবীরা যদি অসৎ উদ্দেশ্যে আবেদন করে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে প্রসিকিউশন আরও কঠোরভাবে তার বিরোধিতা করবে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, মামলাটিতে ২১ জুন একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সোমবার তার জেরা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানির আগে জিয়াউল আহসানের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন নাহার তিন থেকে চারটি আবেদন করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, আবেদনগুলোর মধ্যে কেবল আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতির আবেদনটির বিরোধিতা করা হয়নি, কারণ সেটি একজন আইনজীবীর অধিকার। ট্রাইব্যুনালও সে আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে বাকি আবেদনগুলোকে তিনি একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক বলে অভিহিত করেন।